কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর উদ্ধার অভিযান তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির এই ভূমিকম্পকে চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
১০ আগস্ট স্থানীয় সময় সকালে পশ্চিম কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কম্পনে দেশটির বিভিন্ন শহরে ভবন, হাসপাতাল, স্কুল ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়। ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
প্রথম কয়েক ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের সবচেয়ে ভয়াবহ দিকগুলোর একটি হলো, অনেক মানুষ ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। কোথাও কোথাও হাত দিয়েও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ করা হচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তত বাড়ছে।
ভূমিকম্পে শুধু প্রাণহানি নয়, ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। ১২ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালগুলোতেও আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট উদ্ধার অভিযানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। অনেক পরিবার এখনও নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে হাসপাতাল ও উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে অপেক্ষা করছেন।
এই ভূমিকম্প কলম্বিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরের পাশাপাশি রাস্তাঘাট, হাসপাতাল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মেরামতে সময় লাগবে। বহু পরিবারকে সাময়িক আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা দিতে হবে।
উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এখন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে রোগ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং পানি, খাবার ও চিকিৎসা সরবরাহ নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কলম্বিয়ার এই ভূমিকম্প আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক ঘণ্টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেশটির সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
