কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই দেশটি এমন এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে, যা তাঁর সরকারের জন্য প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১০ আগস্টের ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিধ্বস্ত হওয়ার পর এখন তাঁকে একসঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্গঠনের বিশাল কাজ সামলাতে হচ্ছে।
ভূমিকম্পটি এমন সময়ে আঘাত হানে যখন নতুন সরকার এখনো প্রশাসনিক কাঠামো ও নীতিগত অগ্রাধিকার ঠিকভাবে সাজিয়ে উঠতে পারেনি। দে লা এসপ্রিয়েলা নির্বাচনের আগে সরকারি ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু ভূমিকম্প তাঁকে দ্রুত বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ জরুরি উদ্ধার ও পুনর্গঠনে ব্যয় করার পরিস্থিতিতে ফেলেছে।
ভূমিকম্পে কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। অনেক পরিবার রাত কাটাচ্ছে খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে। দুর্গম অঞ্চলগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খাবার, পানি ও চিকিৎসা সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে জরুরি তহবিল তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি, স্কুল ও হাসপাতাল পুনর্নির্মাণে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় রাষ্ট্রের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো হবে।
তবে সরকারের তৎপরতা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। কিছু এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছাতে দেরি হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। আবার সরকার জানিয়েছে, তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের জন্য সবচেয়ে কঠিন ভারসাম্য হবে অর্থনৈতিক নীতি ও মানবিক প্রয়োজনের মধ্যে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সরকারি ব্যয় কমানোর কথা বললেও এত বড় দুর্যোগে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় ছাড়া বিকল্প নেই।
আন্তর্জাতিক সহায়তা কিছুটা চাপ কমিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ উদ্ধার ও মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আশ্রয় এবং মানসিক সহায়তা দিচ্ছে।
এই ভূমিকম্প তাই শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি নতুন সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতারও পরীক্ষা। দে লা এসপ্রিয়েলা কীভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছান এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন করেন—তার ওপর তাঁর সরকারের জনসমর্থনের বড় অংশ নির্ভর করতে পারে।
