যুক্তরাষ্ট্রের ইরান হামলার পর এবার পাল্টা আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানি বাহিনী বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন অবস্থানকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। হামলার উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাব দেওয়া।
এই পাল্টা হামলা এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানোর পর। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানি রকেট লঞ্চারও আঘাত করেছিল। কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক বিরতির পর এই হামলা সংঘাতকে আবার সক্রিয় করে তোলে।
ইরানের পাল্টা আক্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভৌগোলিক বিস্তার। বাহরাইন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র। দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে। ফলে সেখানে হামলা হলে শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, পুরো উপসাগরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাই চাপের মুখে পড়তে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গায় মার্কিন উপস্থিতিকে লক্ষ্য করার হুমকি ও সামরিক তৎপরতার খবর এসেছে। এতে জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের সামরিক অভিযান ইরানের হামলা ও হুমকির জবাব। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে এবং মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে এই জলপথে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোও এখন কঠিন অবস্থায় পড়েছে। তারা একদিকে মার্কিন নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধেও জড়াতে চায় না। ফলে আঞ্চলিক কূটনীতিতে চাপ দ্রুত বাড়ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোন হামলা যদি নিয়মিত পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং মার্কিন বাহিনী তার জবাবে আরও বড় আকারের হামলা চালায়, তাহলে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ইরান অবশ্য বারবার জানিয়েছে, তারা নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিক্রিয়া জানাবে। যুক্তরাষ্ট্রও পিছিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমানোর কথা বলছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এখন একটি বিপজ্জনক প্রতিশোধের চক্রে ঢুকে পড়েছে—যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাচ্ছে, ইরান পাল্টা আঘাত করছে, আর প্রতিটি নতুন হামলা পরবর্তী হামলার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
