জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ এবারও পেলেন না ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো তার যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। ফলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কেন ভিসা প্রত্যাখ্যান
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কয়েকজন কর্মকর্তা ও পিএলও সদস্যও রয়েছেন। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চাপ তৈরির চেষ্টা করছে।
মার্কিন প্রশাসন মনে করে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কিছু পদক্ষেপ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক আদালত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত।
এই অবস্থান থেকেই আব্বাসের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জাতিসংঘে সরাসরি উপস্থিতির বদলে ভিডিও বক্তব্য
ভিসা না পাওয়ার পরও আব্বাসের বক্তব্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৭ সেপ্টেম্বর একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে, যাতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের পূর্বে ধারণ করা বক্তব্য উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে প্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়।
ভোটে প্রস্তাবের পক্ষে ১৫২টি দেশ ভোট দেয়। বিপক্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও প্যারাগুয়ে। চারটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
ফলে আব্বাস নিউইয়র্কের সভাকক্ষে উপস্থিত না থাকলেও তার রেকর্ড করা বক্তব্য জাতিসংঘের অধিবেশনে উপস্থাপিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
ফিলিস্তিনের জন্য বড় কূটনৈতিক বার্তা
ফিলিস্তিন জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র নয়; পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে সেখানে তাদের মর্যাদা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিস্তিন সম্পর্কের টানাপোড়েনও বেড়েছে। গাজা যুদ্ধ, ইসরায়েলের নীতি এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও রামাল্লার অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রেসিডেন্টকে জাতিসংঘে সরাসরি উপস্থিত হতে না দেওয়া তাদের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার একটি উদাহরণ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ভিসা নীতি তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির অংশ।
জাতিসংঘে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ
আব্বাসের অনুপস্থিতির মধ্যেই এবার জাতিসংঘে ফিলিস্তিন প্রশ্ন আরও বড় হয়ে উঠেছে। ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান জোরালো করছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও জাতিসংঘে ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রীয় অধিকার ও গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন।
ফলে আব্বাসের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নয়; এটি ফিলিস্তিন প্রশ্নে ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থান এবং জাতিসংঘের বৃহত্তর কূটনৈতিক পরিবেশের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
