ছয় বছর আগে রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন ব্রিটিশ রাজপুত্র হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। এবার সেই সিদ্ধান্তের ঠিক বিপরীত পথে হাঁটতে যাচ্ছেন তারা। ক্যালিফোর্নিয়ার জীবন ছেড়ে সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে নিয়ে আবার ব্রিটেনে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস। রাজপরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ও বিতর্কের পর তাদের এই প্রত্যাবর্তনের খবর নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যারি ও মেগান চলতি আগস্টের শেষ দিকে ব্রিটেনে ফিরবেন এবং সন্তানদের ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করার জন্য। তবে তাদের প্রত্যাবর্তন রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে পুরোনো দায়িত্বে ফেরা নয়। তারা একটি ব্যক্তিগত, অ-রাজকীয় বাসভবনে থাকবেন এবং ‘নন-ওয়ার্কিং রয়্যাল’ হিসেবেই থাকবেন। অর্থাৎ রাজকীয় দায়িত্বে ‘অর্ধেক ভেতরে, অর্ধেক বাইরে’ থাকার কোনো নতুন ব্যবস্থা হচ্ছে না।
হ্যারি ও মেগানের ব্রিটেন ছাড়ার গল্পটিও ছিল নাটকীয়। ২০২০ সালে তারা রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ কর্মরত সদস্যের ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ান এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকেই রাজপরিবার, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ও বিশেষ করে হ্যারির বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে গেছে। ওপরা উইনফ্রেকে দেওয়া সাক্ষাৎকার, নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র এবং হ্যারির আত্মজীবনী Spare—সবকিছু মিলিয়ে পারিবারিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজা চার্লসের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত মাসে চার্লসের সঙ্গে হ্যারি-মেগান ও তাদের সন্তানদের সাক্ষাৎ হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজা তার ছেলে ও নাতি-নাতনিদের আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্কের বরফ গলবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
এই প্রত্যাবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিরাপত্তা। হ্যারি দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছিলেন, পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়া তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ব্রিটেনে আসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে তার আইনি লড়াইও হয়েছিল। ফলে এবার পরিবার নিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্রিটেনে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা কীভাবে হবে? এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
হ্যারি-মেগানের এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ঠিকানা বদলের খবর নয়; এটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। ছয় বছর আগে যে দম্পতির বিদায় বিশ্বজুড়ে ‘মেগজিট’ নামে আলোচিত হয়েছিল, তাদের ফিরে আসা এখন নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে—ব্রিটেনে ফিরে কি হ্যারি তার বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করতে পারবেন?
নাকি পুরোনো ক্ষত ও বিতর্ক আবারও সামনে চলে আসবে?
সেটির উত্তর সময়ই দেবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—ছয় বছর পর হ্যারি ও মেগানের ব্রিটেনে ফিরে আসা রাজপরিবারের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
