রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন অভিযান দ্রুত বাড়ছে এবং এর ফলে রাশিয়ার আকাশসীমা বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
১ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার আকাশপথ ব্যবহারকারী এয়ারলাইন, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং যাত্রীদের পরিস্থিতির পরিবর্তন বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের ড্রোন অভিযান অব্যাহত থাকলে রাশিয়ার আকাশসীমা কার্যত বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তবে জেলেনস্কি একই সঙ্গে দাবি করেছেন, ইউক্রেনের উদ্দেশ্য বেসামরিক যাত্রীবাহী বিমানকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা নয়। তাঁর সতর্কতার মূল কারণ হলো রাশিয়ার ভূখণ্ডের ভেতরে সামরিক ড্রোন অভিযানের ব্যাপকতা বৃদ্ধি।
গত কয়েক মাসে ইউক্রেন নিজেদের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গসহ রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর সক্ষমতা তৈরি করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
এই পরিবর্তন বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। রাশিয়ার বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর অতীতে ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সাময়িকভাবে ফ্লাইট বন্ধ বা সীমিত করেছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও এর প্রভাব পড়ছে যাত্রীবাহী বিমান পরিবহনে।
জেলেনস্কির বক্তব্যের পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা—ICAO-কেও বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের অবস্থান হলো, রাশিয়ায় সামরিক কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে দেশটির আকাশসীমা বেসামরিক বিমানের জন্য নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইউক্রেনের ড্রোন অভিযানের লক্ষ্য মূলত রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা এবং যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা। কিয়েভের কৌশল হলো রাশিয়ার ভূখণ্ডের ভেতরে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও সামরিক মূল্য বাড়ানো।
রাশিয়া অবশ্য ইউক্রেনের এই ধরনের হামলার তীব্র বিরোধিতা করছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের ড্রোন অভিযানকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে মস্কো ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে হামলা আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে।
বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো—যুদ্ধরত অঞ্চলের আকাশসীমায় সামরিক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপস্থিতি। একটি বেসামরিক বিমানকে লক্ষ্য না করেও সামরিক কার্যক্রমের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোকে রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হতে পারে। বিশেষ করে বিমা কোম্পানিগুলো যদি যুদ্ধজনিত ঝুঁকির মূল্যায়ন পরিবর্তন করে, তাহলে রাশিয়ার ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার খরচ ও রুট—দুই ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসতে পারে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ তাই এখন শুধু স্থল ও সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নেই; আকাশপথ ও আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলও ক্রমেই এর প্রভাবের মধ্যে চলে আসছে।
জেলেনস্কির সতর্কবার্তা সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে—রাশিয়ার আকাশসীমা এখন আর শুধু একটি আন্তর্জাতিক বিমান রুট নয়, বরং চলমান যুদ্ধের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ অংশ।
