পূর্ব এশিয়ায় চলতি বছরের ভয়াবহ তাপপ্রবাহ মানুষের জীবন থেকে কৃষি—সবকিছুর ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, হংকং এবং চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। কোথাও তাপমাত্রা এতটাই বেড়েছে যে কৃষিজমিতে আলু ও তরমুজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় তাপমাত্রা উঠেছে ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত—দেশটির জন্য অত্যন্ত বিরল মাত্রা। প্রচণ্ড গরমে আলু ও তরমুজের মতো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের অনেকেই অতিরিক্ত তাপের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
জাপানেও তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি ভয়াবহ। দেশটিতে প্রথমবারের মতো ‘কোকুশোবি’ বা অত্যন্ত তীব্র গরমের দিন হিসেবে বর্ণনা করার মতো ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। এর ফলে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে।
হংকংয়েও পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। সেখানে ৩৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা শহরটির জন্য সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড। প্রচণ্ড গরমে শহুরে তাপপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই তাপপ্রবাহ শুধু মানুষের অসুস্থতা বাড়াচ্ছে না; কৃষি, পশুপালন ও মৎস্য খাতেও বড় প্রভাব ফেলছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় গরমের কারণে গবাদিপশু ও জলজ খাতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কৃষকদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—ফসল নষ্ট হলেও অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতির পুরোটা বিমার আওতায় আসে না।
চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলেও তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে। উত্তর কোরিয়াতেও রাতের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে জলবায়ু পরিবর্তনের বৃহত্তর প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত করছেন। এল নিনোর প্রভাবও বর্তমান আবহাওয়াকে আরও চরম করে তুলছে বলে বিশ্লেষণ রয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের পর এশিয়ার উষ্ণতা বৃদ্ধির গতি দ্বিগুণ হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ধরনের তাপপ্রবাহ একসময় বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন অনেক অঞ্চলে ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে। শহরে কংক্রিটের তাপ, কম সবুজ এলাকা এবং উচ্চ আর্দ্রতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
ফলে পূর্ব এশিয়ার বর্তমান তাপপ্রবাহ শুধু কয়েক দিনের আবহাওয়ার খবর নয়। এটি ভবিষ্যৎ কৃষি, নগর পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য এবং জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বড় সতর্কবার্তা।
