দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। বিতর্কিত প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের ইয়াগং দ্বীপে চীনের নতুন নির্মাণকাজ নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ভিয়েতনাম। স্যাটেলাইট ছবিতে ওই এলাকায় নতুন স্থাপনা গড়ে ওঠার চিত্র সামনে আসার পর হ্যানয় বেইজিংকে কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ভিয়েতনামের অভিযোগ, প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব থাকা সত্ত্বেও চীন সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভিয়েতনামের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে ইয়াগং দ্বীপে তৈরি হওয়া নতুন স্থাপনাগুলো। স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এগুলো ভবিষ্যতে নজরদারি বা প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থার অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এগুলো ঠিক কী উদ্দেশ্যে তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ চীন সাগর বহু বছর ধরে চীন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভূখণ্ড ও সামুদ্রিক অধিকার নিয়ে বিরোধের অন্যতম কেন্দ্র। চীন প্যারাসেল ও স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জসহ বিশাল একটি সামুদ্রিক অঞ্চল নিজেদের বলে দাবি করে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও তাইওয়ানেরও বিভিন্ন অংশে দাবি রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতির বিশেষ গুরুত্ব হলো—চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিতর্কিত দ্বীপ ও প্রবালপ্রাচীরে কৃত্রিমভাবে ভূমি সম্প্রসারণ করে সামরিক ও নজরদারি অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। নতুন নির্মাণকাজ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ কি না, তা নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ চীন সাগর শুধু ভূখণ্ডগত বিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক নৌপথ। বিপুল পরিমাণ জ্বালানি, কাঁচামাল ও পণ্য এই অঞ্চলের সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব আঞ্চলিক বাণিজ্যের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
ভিয়েতনামের প্রতিবাদে তাই শুধু দ্বীপের মালিকানা নয়, ভবিষ্যতের সামরিক ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগ স্পষ্ট। বেইজিং যদি নতুন স্থাপনাগুলোকে আরও বড় সামরিক অবকাঠামোয় রূপ দেয়, তাহলে দক্ষিণ চীন সাগরে নজরদারি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ভারসাম্য আরও বদলে যেতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাও দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিক সম্প্রসারণ পর্যবেক্ষণ করছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়ার ফলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে এই জলপথ।
সব মিলিয়ে ইয়াগং দ্বীপে নতুন নির্মাণকাজকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিরোধ দক্ষিণ চীন সাগরের পুরোনো ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন নজর থাকবে—চীন সেখানে কী ধরনের স্থাপনা তৈরি করছে এবং ভিয়েতনামের প্রতিবাদের পর বেইজিং কী প্রতিক্রিয়া জানায়।
