ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে প্রথমবারের মতো সরাসরি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হাজির হয়েছেন। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আদালতে বুধবার তার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে হাজারো মানুষের মৃত্যুর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুতার্তে অভিযুক্ত।
কেন আদালতে দুতার্তে
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন, দুতার্তের নেতৃত্বাধীন মাদকবিরোধী অভিযানের সময় মাদক ব্যবসায়ী, ব্যবহারকারী এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, দুতার্তে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও তথাকথিত ‘ডেথ স্কোয়াড’ মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হত্যাকাণ্ড চালাত।
দুতার্তে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান ছিল ফিলিপাইনের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তার সরকারের নীতি।
দ্য হেগে প্রথম সরাসরি উপস্থিতি
দুতার্তেকে ২০২৫ সালের মার্চে গ্রেপ্তার করে দ্য হেগে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আদালতের প্রাথমিক কার্যক্রমে তিনি আগে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়েছিলেন।
এবার প্রথমবারের মতো তিনি আদালতকক্ষে সরাসরি উপস্থিত হলেন।
আদালতে তার উপস্থিতি ছিল মামলার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অংশ। তার বিরুদ্ধে মূল বিচার শুরু হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ৩০ নভেম্বর।
এর ফলে এখন মামলার মূল প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং প্রসিকিউশন ও প্রতিরক্ষার যুক্তি নিয়ে আরও বিস্তারিত বিচারিক কার্যক্রম সামনে আসবে।
হাজারো মৃত্যুর অভিযোগ
দুতার্তের মাদকবিরোধী অভিযান তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদজুড়ে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত ছিল। ফিলিপাইনের সরকারি হিসাব এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবের মধ্যে নিহত মানুষের সংখ্যা নিয়ে বড় পার্থক্য রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মামলায় মূল প্রশ্ন হলো—এসব হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন অপরাধ ছিল, নাকি বৃহত্তর একটি সংগঠিত নীতির অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়েছিল।
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে আদালতকে বিভিন্ন নথি, সাক্ষ্য এবং ঘটনাবলির ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করতে হবে।
দুতার্তের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
ফিলিপাইনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দুতার্তের প্রভাব এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তার শাসনামলে মাদকবিরোধী অভিযানকে সমর্থন করা জনগোষ্ঠী ছিল, আবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনাও হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক আদালতের বিচার তাই শুধু একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত মামলার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নীতি, আইনশৃঙ্খলা অভিযান এবং মানবাধিকারের সীমা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে।
মামলার পরবর্তী ধাপ
৩০ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত বিচারপর্বে প্রসিকিউশন দুতার্তের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করবে। প্রতিরক্ষা পক্ষও পাল্টা যুক্তি ও প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পাবে।
তবে এখনই মামলার ফলাফল সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
দুতার্তের প্রথম সরাসরি উপস্থিতি তাই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত মুহূর্ত। সামনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে আদালত নির্ধারণ করবে, তার বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত হয় কি না।
