ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মার্কিন গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা ডাইভারজেন্ট মাইক্রোফ্যাক্টরিজ বানিয়ে ফেলল থ্রি-ডি প্রিন্টারে নির্মিত আস্ত একটি গাড়ি, যার নাম তারা দিয়েছে ‘ব্লেড’। প্রস্তুতকারকদের দাবি, এটিই থ্রি-ডি প্রিন্টারে প্রস্তুতকৃত বিশ্বের প্রথম গাড়ি।
থ্রি-ডি প্রিন্টিং এমন এক প্রযুক্তি, যার সাহায্যে যেকোন ত্রিমাত্রিক বস্তুর অবিকল আরেকটি প্রতিরূপ তৈরি করা যায়। সাধারণ প্রিন্টারে যেমন কালি ব্যবহার করা হয় ছাপানোর কাজে, থ্রি-ডি প্রিন্টারে কালির পরিবর্তে মূল বস্তুটি যা দিয়ে তৈরি সেই পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
নতুন প্রস্তুতকৃত ‘ব্লেড’ নামের এই গাড়িটি বদলে দিতে পারে গাড়ি উৎপাদনের গতানুগতিক পুরো ধারণাই। ডাইভারজেন্ট মাইক্রোফ্যাক্টরিজের কর্ণধার কেভিন জিংগার বহু বছর ধরেই গাড়ি প্রস্তুতের সাথে জড়িত। তার মতে, যদিও আধুনিককালের গাড়ি নির্মাণ প্রক্রিয়া কয়েক দশক আগের চেয়ে অনেক বেশি জ্বালানী সাশ্রয়ী এবং কম দূষণকারী, তারপরও এটি শতভাগ পরিবেশবান্ধব নয়। জিংগারের বিশ্বাস, গাড়ির ধাতব অংশগুলো থ্রি-ডি প্রযুক্তিতে তৈরি করলে পুরো প্রক্রিয়ার ধারণাই বদলে যাবে। গাড়ির ভিন্ন ভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদা আলাদা ভাবে থ্রি-ডি প্রিন্টারে প্রিন্ট করিয়ে তারপর সংযুক্ত করলে তাতে সময়ও লাগবে কম, জ্বালানী খরচ এবং পরিবেশ দূষণও থাকবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
‘ব্লেড’ গাড়িটির থ্রি-ডি প্রিন্টারে নির্মিত চেসিসের ওজন মাত্র ১০২ পাউন্ড, যা সাধারণ গাড়ির স্টীলের চেসিসের মতই সমান শক্ত এবং নিরাপদ। থ্রি-ডি প্রিন্টারে নির্মিত চেসিসে স্টীল বা অ্যালুমিনিয়ামের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে কার্বন ফাইবার। এতে পুরো গাড়ির ওজন নেমে এসেছে মাত্র ৬৩৫ কেজিতে। ৭০০ হর্স পাওয়ারের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে যা গ্যাসেও চালানো যাবে। ডাইভারজেন্ট মাইক্রোফ্যাক্টরিজ মন্তব্য করেছে, ‘ব্লেড’ প্রস্তুত করা হয়েছে দ্রুতগতির কিন্তু পরিবেশবান্ধব সুপারকার নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে।
গবেষকরা আশা করছেন, শুধু গাড়িই নয়, শীঘ্রই মানুষের জীবনের ব্যবহার্য সবকিছুর ক্ষেত্রেই প্রভাব বিস্তার করবে থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি। বন্দুক, জাহাজ, বিমান থেকে শুরু করে এমনকি কৃত্রিম কিডনি বা মানবদেহের যেকোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গও থ্রি-ডি প্রিন্টারে বানিয়ে ফেলা যাবে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে।
