হাইতির সাবেক প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজ হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর মামলায় নতুন বড় অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। ২০২১ সালের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ১৮ সন্দেহভাজনকে হাইতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বিমানে তাদের ফ্লোরিডায় নেওয়া হয়। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
মোইজ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় আটকে ছিল। এখন সন্দেহভাজনদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ঘটনায় মামলাটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
চার বছর আগের সেই হত্যাকাণ্ড
২০২১ সালের ৭ জুলাই রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে নিজের বাসভবনে গুলিতে নিহত হন জোভেনেল মোইজ। তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। হামলায় তার স্ত্রী মার্টিন মোইজও আহত হন।
হত্যাকাণ্ডের পর হাইতিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও খারাপ হয়ে ওঠে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়তে থাকে।
মোইজ হত্যার তদন্তে হাইতি ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশেই আলাদা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
১৮ সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর
২০ সেপ্টেম্বর ১৮ সন্দেহভাজনকে হাইতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সাবেক হাইতিয়ান সরকারি কর্মকর্তা জোসেফ বাদিও এবং ১৭ জন কলম্বিয়ান নাগরিক রয়েছেন।
পরদিন তাদের মিয়ামির ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তারা মোইজ হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে কেন বিচার
মোইজ হত্যার সঙ্গে যুক্ত ষড়যন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছিল বলে মার্কিন প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে মে মাসে ফ্লোরিডায় চারজনকে মোইজ হত্যার ষড়যন্ত্রে কলম্বিয়ান ভাড়াটে যোদ্ধাদের নিয়োগ ও সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
নতুন করে ১৮ সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ায় মামলার বিচারিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
হাইতির বিচারব্যবস্থার জটিলতা
সন্দেহভাজনদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর পেছনে হাইতির নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
হাইতির বিচারমন্ত্রী প্যাট্রিক পেলিসিয়ে বলেছেন, দেশটিতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। দেশটির আদালত ও বিচারকদের ওপর নিরাপত্তাজনিত চাপও রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী পিয়ের এসপেরাঁসা অবশ্য সন্দেহভাজনদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার হাইতির নিজস্ব বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা
মোইজ হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগপত্রে বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা, অর্থায়ন কিংবা হামলাকারীদের সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
প্রসিকিউটরদের দাবি, ফ্লোরিডা থেকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কিছু অংশ পরিচালিত হয়েছিল। এমনকি কোভিড-১৯ ব্যবসায়িক সহায়তার অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগও নতুন অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে।
তবে মামলার বিভিন্ন অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারেই নির্ধারিত হবে।
নতুন পর্যায়ে মোইজ হত্যার মামলা
চার বছর পর ১৮ সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মোইজ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নতুন গতি পেয়েছে। মিয়ামির আদালতে তাদের হাজির করার মধ্য দিয়ে এখন মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অভিযোগগুলো বিচারিকভাবে পরীক্ষা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
হাইতির রাজনৈতিক সংকটের সূচনা হিসেবে দেখা সেই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আসলে কারা ছিল, কীভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং হত্যার অর্থায়ন কোথা থেকে এসেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের দিকেই নজর থাকবে।
