ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। শনিবারের এই হামলায় সৌদি রাজধানীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়ে। সৌদি কর্তৃপক্ষ হামলার চেষ্টা নিশ্চিত করলেও হুথিদের দাবি করা সব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত লেগেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
রিয়াদকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সৌদি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছোড়া হয়েছে।
হুথিরা আরও দাবি করেছে, সৌদি আরবের ইয়ানবু এলাকায় সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনাও হামলার লক্ষ্য ছিল। একই সময় রিয়াদের বিমানবন্দর এলাকায় বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার খবর পাওয়া যায়।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুথিরা রাজধানী লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। হামলার কিছু অংশ প্রতিহত করা হয়েছে বলে সৌদি পক্ষের বক্তব্য।
বিমানবন্দরেও প্রভাব
রিয়াদে হামলার খবরের পর বিমান চলাচলে সাময়িক বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়। রাজধানীর আকাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগ কেন্দ্র। সেখানে নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন বা বিলম্ব তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু সৌদি আরবেই নয়, আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ওপরও পড়ে।
হুথিদের হামলার দাবিতে বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণ অবকাঠামোও লক্ষ্য করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
ইয়েমেনের যুদ্ধ আবার তীব্র হচ্ছে
সৌদি রাজধানী লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হুথি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে বেড়েছে।
দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টে লড়াই চলছে। এতে বেসামরিক মানুষসহ বহু হতাহতের ঘটনা ঘটছে এবং নতুন করে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
হুথিরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। তবে যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন পর্যায়ে এই হামলার মাত্রা কমেছিল। সাম্প্রতিক স্থলযুদ্ধ তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হামলার ঝুঁকি বেড়েছে।
আঞ্চলিক যুদ্ধের সঙ্গে যোগসূত্র
ইয়েমেনের সংঘাত এখন আর শুধু অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব এবং উপসাগরীয় জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তার সঙ্গে এটি সরাসরি যুক্ত।
হুথিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক এবং সৌদি আরবের যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় ইয়েমেনের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।
সৌদি রাজধানীর ওপর নতুন হামলার দাবি তাই শুধু রিয়াদের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সামরিক উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে।
এখন সৌদি আরব কী ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া জানায় এবং ইয়েমেনের স্থলযুদ্ধ আরও বাড়ে কি না—সেদিকেই নজর থাকবে।
