ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরের গভীরে উল্টে পড়ে থাকা ফেরির ভেতরে আটকে থাকা নিখোঁজদের সন্ধানে এবার মানুষের পাশাপাশি নামানো হয়েছে রোবট। ভয়ংকর স্রোত, কম দৃশ্যমানতা এবং জাহাজের জটিল কাঠামোর কারণে ডুবুরিরা সরাসরি ভেতরে ঢুকতে বারবার ঝুঁকির মুখে পড়ছিলেন। সেই বাধা কাটাতে দূরনিয়ন্ত্রিত পানির নিচের যান বা আরওভি ব্যবহার করছে উদ্ধারকারী দল।
১২ সেপ্টেম্বর সুরাবায়া থেকে বানজারমাসিনের উদ্দেশে যাত্রা করা ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮ পরদিন খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে দুর্ঘটনার পর জাভা সাগরে উল্টে যায়।
ফেরির ভেতরে পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
ফেরিটিতে মোট ২৪৩ জনের নাম ছিল। দুর্ঘটনার পর বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। ডুবে যাওয়া জাহাজটির ভেতরে প্রবেশ করে নিখোঁজদের খুঁজে বের করাই এখন উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে কঠিন অংশ।
সমুদ্রের নিচে শক্তিশালী স্রোত থাকায় ডুবুরিদের দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে উল্টে থাকা জাহাজের ভেতরের পথও সহজ নয়।
এই অবস্থায় উদ্ধারকারী সংস্থা বাসারনাস আরওভি প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে।
কীভাবে কাজ করছে পানির নিচের রোবট
আরওভি একটি দূরনিয়ন্ত্রিত পানির নিচের যান। এটি জাহাজের ভেতরের বিভিন্ন পথ ও কক্ষের দিকে এগিয়ে গিয়ে ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি ধারণ করতে পারে। ওপরের দিকে থাকা উদ্ধারকারী দল সেই ছবি দেখে জাহাজের কোন অংশে কী পরিস্থিতি রয়েছে তা বুঝতে পারে।
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বিপজ্জনক জায়গায় প্রথমে মানুষকে না পাঠিয়েই পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। রোবটের পাওয়া ছবির ভিত্তিতে ডুবুরিরা পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করছেন।
বাসারনাস জানিয়েছে, রোবটটি ফেরির করিডোর ও অভ্যন্তরীণ অংশ পর্যবেক্ষণ করেছে। এরপর পাওয়া তথ্য অনুসরণ করে ডুবুরিরা জাহাজে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
স্রোতের সঙ্গে লড়াই
তবে প্রযুক্তি ব্যবহার করেও অভিযান সহজ হয়নি। পানির নিচে প্রবল স্রোতের কারণে প্রথম দফায় আরেকটি রোবট অভিযান পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। কোথাও স্রোতের গতি বেড়ে যাওয়ায় সরঞ্জাম ফিরিয়ে আনতে হয়েছে।
ডুবুরিদের জন্যও একই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। প্রবল স্রোত তাদের অবস্থান ধরে রাখা এবং জাহাজের সরু অংশে প্রবেশের কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
এ কারণেই আবহাওয়া ও সমুদ্রের পরিস্থিতি সামান্য অনুকূলে এলেই দ্রুত ডুবুরি অভিযান চালানো হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে নতুন ধাপ
ফেরিটি প্রায় ২৪ থেকে ২৯ মিটার গভীরে রয়েছে। জাহাজটি সরানোর বা উপরে তোলার পরিকল্পনাও উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে সমান্তরালে এগোচ্ছে। তবে এর আগে পানির নিচে জাহাজটির অবস্থান ও কাঠামো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা প্রয়োজন।
আরওভি সেই কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাহাজের অবস্থান, কোন অংশে কী ধরনের বাধা রয়েছে এবং কোথা দিয়ে ডুবুরিরা প্রবেশ করতে পারবেন—এসব তথ্য সংগ্রহে প্রযুক্তিটি সহায়তা করছে।
আশা এখন প্রযুক্তি ও সময়ের ওপর
ইন্দোনেশিয়ার এই উদ্ধার অভিযান ইতোমধ্যে দীর্ঘ ও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রতিকূল সমুদ্র, ডুবে থাকা জাহাজের কাঠামো এবং বিপুলসংখ্যক নিখোঁজ মানুষের কারণে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রোবট প্রযুক্তি উদ্ধারকারীদের ঝুঁকি কমিয়ে জাহাজের ভেতরের পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করছে। এখন আবহাওয়া ও স্রোত কিছুটা অনুকূলে এলে আরও বেশি ডুবুরি জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করে অনুসন্ধান চালাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
