ইন্দোনেশিয়ার বন ও ভূমি আগুন এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আগুনের বিরুদ্ধে কার্যত সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে সরকার। আকাশ থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হাজার হাজার কর্মীকে পাঠানো হয়েছে দুর্গম এলাকায়। সরকারি হিসাবে, আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪টি বিমান এবং ৫৪ হাজার ৩৯৪ জন কর্মী আগুন মোকাবিলায় মোতায়েন করা হয়েছে।
দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক আগুনের কেন্দ্র শনাক্ত হওয়ায় স্থল ও আকাশ—দুই পথেই অভিযান চালানো হচ্ছে।
আকাশে ৬৪ বিমান
ইন্দোনেশিয়ার মন্ত্রিসভা সচিব তেদ্দি ইন্দ্রা উইজায়া জানিয়েছেন, আগস্ট থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে ৬৪টি বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৫টি বিমান জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার এবং নয়টি বিমান সশস্ত্র বাহিনীর।
বিমানগুলো মূলত পানি ছোড়ার অভিযান বা ওয়াটার বোম্বিংয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। দুর্গম বনাঞ্চল কিংবা এমন এলাকায় যেখানে স্থলপথে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন, সেখানে আকাশপথে পানি ফেলে আগুনের তীব্রতা কমানোর চেষ্টা চলছে।
কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য শুধু আগুন নিভিয়ে ফেলা নয়, আগুন যেন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেটিও নিশ্চিত করা।
মাঠে ৫৪ হাজারের বেশি কর্মী
আকাশপথের পাশাপাশি স্থল অভিযানেও বড় ধরনের জনবল নামানো হয়েছে। মোট ৫৪ হাজার ৩৯৪ জন কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যুক্ত রয়েছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বন মন্ত্রণালয়, জাতীয় ও আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা, বন অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিভিন্ন অঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম কালিমান্তানে ১৪ হাজার ৭৫৯ জন, রিয়াউ ও রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জে ১৪ হাজার ৩৮২ জন এবং দক্ষিণ সুমাত্রায় ১১ হাজার ২৬ জন কাজ করছেন। জাম্বিতে ৫ হাজার ৯৮৪ জন, মধ্য কালিমান্তানে ৪ হাজার ৬৮৬ জন এবং দক্ষিণ কালিমান্তানে ৩ হাজার ৫৫৭ জনকে কাজে নামানো হয়েছে।
পিটভূমিই বড় বাধা
আগুন নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ পিটভূমি। এসব এলাকায় আগুন শুধু মাটির ওপর নয়, মাটির নিচেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে ওপরের আগুন নিভে গেলেও নিচে আগুন জ্বলতে থাকায় পরে আবার ধোঁয়া বা আগুন দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া আগুনের এলাকা বিশাল হওয়ায় প্রতিটি জায়গায় একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জনবল পৌঁছানোও কঠিন। এই কারণেই আকাশপথের অভিযানকে স্থল বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো হচ্ছে।
হটস্পট বেড়ে উদ্বেগ
স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্যও পরিস্থিতির চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ১ হাজার ৩২৩টি উচ্চ-নিশ্চয়তার আগুনের হটস্পট শনাক্ত করা হয়। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৫৪৬।
অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে শনাক্ত হটস্পটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে বিপুল জনবল ও বিমান মোতায়েনের পরও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ সহজ হচ্ছে না।
আগুনের সঙ্গে লড়াইয়ে দীর্ঘ অভিযান
ইন্দোনেশিয়া এখন আগুনের বিস্তার ঠেকাতে একই সঙ্গে একাধিক কৌশল ব্যবহার করছে। আকাশ থেকে পানি ছোড়া, স্থলপথে আগুনের উৎসে পৌঁছানো, ধোঁয়ার প্রভাব কমানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সুরক্ষা—সবকিছু একসঙ্গে চালাতে হচ্ছে।
সরকারের হিসাবে বিপুলসংখ্যক কর্মী ও বিমান ইতোমধ্যে মাঠে রয়েছে। কিন্তু নতুন নতুন হটস্পট তৈরি হওয়ায় অভিযান কত দ্রুত পুরোপুরি সফল হবে, তা নির্ভর করছে আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত এবং আগুনের উৎস নিয়ন্ত্রণের ওপর।
