ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বন ও ভূমিতে লাগা আগুন। দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক আকারে অভিযান চালাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আকাশপথে আগুনের ওপর পানি ছিটানো হচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডের এলাকায় প্রায় ৪৬ লাখ লিটার পানি আকাশপথে ছিটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ার ছয়টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রদেশে অগ্নিনির্বাপণ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একদিনেই হাজার হাজার হটস্পট শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম কালিমান্তান, মধ্য কালিমান্তান ও দক্ষিণ সুমাত্রায় আগুনের উপস্থিতি বিশেষভাবে বেশি ছিল।
তবে আগুনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু ইন্দোনেশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বাতাসের সঙ্গে ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাচ্ছে। ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আবারও ‘ট্রান্সবাউন্ডারি হেজ’ বা সীমান্তপারের ধোঁয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে ইন্দোনেশিয়ার আগুনের ধোঁয়ায় মালয়েশিয়ার সারাওয়াক অঞ্চলে বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ার খবরও এসেছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশপথে পানি ছিটানোর পাশাপাশি মাটিতে থাকা অগ্নিনির্বাপণ দলগুলোও কাজ করছে। কিন্তু বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, শুষ্ক আবহাওয়া এবং একাধিক স্থানে একই সময়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অভিযান কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগুন দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু স্থানীয় পরিবেশ নয়, পুরো অঞ্চলের বায়ুর মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম কণার দূষণ বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মালয়েশিয়াতেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ASEAN দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তপারের ধোঁয়া মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর এই সহযোগিতা আরও কার্যকর করার দাবি নতুন করে সামনে এসেছে।
ইন্দোনেশিয়ার জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের বিস্তার ঠেকানো। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ধোঁয়ার প্রভাব কমানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দাবানলের এই পরিস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন ও ভূমিতে আগুন শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়—এটি দ্রুতই আঞ্চলিক পরিবেশগত সংকটে পরিণত হতে পারে।
