জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে বিদেশিদের এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ইয়েন করেছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে বিদেশিদের বসবাসের অনুমতি নবায়ন ও পরিবর্তনের ফিও বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে জাপানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনা করা অভিবাসীদের ব্যয় বাড়বে।
স্থায়ী বসবাসের আবেদনে বড় পরিবর্তন
জাপানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি বিদেশি নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন মর্যাদা। এ অনুমতি পেলে নির্দিষ্ট মেয়াদে বসবাসের অনুমতি বারবার নবায়নের প্রয়োজন কমে যায় এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা পাওয়া যায়।
নতুন নিয়মে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ফি ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ইয়েন করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় ফি ২০ গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বসবাসের অনুমতি নবায়ন বা ধরন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও ফি বাড়ানো হয়েছে। পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের অনুমতির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দপ্তরে আবেদন করলে ফি সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ইয়েন পর্যন্ত হতে পারে। জাপান টাইমস, জিজি প্রেস ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ফি কাঠামো ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে।
কেন ফি বাড়াল জাপান
জাপান সরকার অভিবাসনসংক্রান্ত প্রশাসনিক ব্যয় এবং বিদেশি বাসিন্দাদের ব্যবস্থাপনার বিষয়কে ফি বাড়ানোর অন্যতম প্রেক্ষাপট হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশটিতে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা বাড়ছে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা যেমন বাড়ছে, তেমনি অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক পরিষেবা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের আলোচনাও জোরদার হয়েছে।
জাপানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা হ্রাস ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। শিল্প, নির্মাণ, সেবা, কৃষি এবং পরিচর্যা খাতে বিদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ফলে বিদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়ম সহজ করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা কঠোর করার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে হচ্ছে সরকারকে।
ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের অংশ। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিদেশি বাসিন্দাদের ওপর আর্থিক চাপ কতটা বাড়বে, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিদেশি বাসিন্দাদের ওপর প্রভাব
স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নতুন ফি বড় ধরনের পরিবর্তন। বিশেষ করে পরিবারসহ জাপানে দীর্ঘমেয়াদে থাকার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্য আবেদন ব্যয় বাড়বে। স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার আগে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ, আয়, কর ও সামাজিক বিমা-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। এর সঙ্গে আবেদন ফি বেড়ে যাওয়ায় আবেদনকারীদের আর্থিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
জাপানে বসবাসরত বিদেশি শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মীদের জন্যও বসবাসের অনুমতি নবায়নের খরচ বাড়তে পারে। তবে সব ধরনের আবেদনের ফি এক নয়; মেয়াদ ও আবেদনের ধরন অনুযায়ী খরচ নির্ধারিত হবে।
কঠোর হচ্ছে শর্তও
ফি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের আয়, পেনশন ও ভাষাগত যোগ্যতা নিয়ে কঠোর শর্তের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব শর্তের উদ্দেশ্য হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা ও সামাজিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের ফলে কোন শ্রেণির আবেদনকারী সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন, তা নির্ভর করবে বিস্তারিত প্রশাসনিক নির্দেশনা এবং আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর।
জাপানের অভিবাসননীতির ভবিষ্যৎ
জাপানের সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মী প্রয়োজন, অন্যদিকে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক সংহতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক রয়েছে। ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককে আরও সামনে আনতে পারে।
নতুন নিয়মের বাস্তব প্রভাব বোঝা যাবে আবেদনসংখ্যা, অনুমোদনের হার এবং বিদেশি বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। আপাতত নিশ্চিত বিষয় হলো, জাপানে স্থায়ী বসবাসের আবেদন আগের তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল হয়েছে।
