কেনিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ইকুয়েডরের গোয়েন্দাপ্রধান, তার স্ত্রী এবং পাঁচ মার্কিন নাগরিকসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দেশটির সামবুরু কাউন্টির মাউন্ট ওলোলোকওয়ের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। হেলিকপ্টারে থাকা কোনো যাত্রী বা পাইলটই বেঁচে নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন ইকুয়েডরের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সেন্টারের প্রধান মিশেল সেনসি- কন্তুগি এবং তার স্ত্রী স্টেফানি হলিহান। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় পাঁচ মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্প্যানিশ ভাষার টেলিভিশন নেটওয়ার্ক টেলিমুন্ডোর একজন শীর্ষ নির্বাহীও ছিলেন।
পর্যটন ফ্লাইট থেকেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
কেনিয়া সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (KCAA) জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি একটি পর্যটন বা দৃশ্য দেখার ফ্লাইটে ছিল। এটি সামবুরু অঞ্চলের লইসাবা কনজারভেন্সি থেকে ইওয়াসো নিয়িরো এলাকার দিকে যাচ্ছিল। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টা ১৩ মিনিটে হেলিকপ্টারটি মাউন্ট ওলোলোকওয়ের পাদদেশের দুর্গম এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
হেলিকপ্টারটিতে ছিলেন একজন পাইলট ও ছয়জন যাত্রী। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও দুর্গম ভূখণ্ড এবং আগুনের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে। কেনিয়া রেড ক্রসের প্রকাশ করা ছবিতে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটি ছিল Eurocopter EC130 B4 মডেলের। এটি পরিচালনা করছিল স্থানীয় প্রতিষ্ঠান Lady Lori Helicopters। পর্যটন সংস্থা &Beyond জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
ইকুয়েডরের গোয়েন্দাপ্রধানের মৃত্যুতে শোক
মিশেল সেনসি-কন্তুগির মৃত্যু ইকুয়েডরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তিনি ২০২৪ সালে দেশটির ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সেন্টারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তাকে বিবেচনা করা হতো।
ইকুয়েডর সরকার এক বিবৃতিতে সেনসি-কন্তুগি ও তার স্ত্রী স্টেফানি হলিহানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী রবার্তো লুকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এই দম্পতি দুই সন্তান রেখে গেছেন।
হলিহানও মার্কিন নাগরিক ছিলেন। ফলে দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ মার্কিন নাগরিকের তালিকায় তার নামও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নাইরোবিতে থাকা মার্কিন দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিহতদের পরিবারকে কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে।
টেলিমুন্ডো নির্বাহীর মৃত্যু
নিহতদের মধ্যে ছিলেন হোসে আলবার্তো সুয়ারেজ, ফ্লোরিডায় টেলিমুন্ডোর কয়েকটি স্টেশনের প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার। তার মৃত্যুতে এনবিসিইউনিভার্সালের কর্মকর্তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সহকর্মীদের কাছে সুয়ারেজ একজন দায়িত্বশীল ও নিবেদিতপ্রাণ পেশাজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
দুর্ঘটনাটি এমন একটি এলাকায় ঘটেছে, যা কেনিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন অঞ্চল। মাউন্ট ওলোলোকওয়ে সামবুরু জনগোষ্ঠীর কাছে একটি পবিত্র পাহাড় এবং পর্যটকদের কাছেও এটি জনপ্রিয় গন্তব্য। দুর্গম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে অনেক পর্যটক হেলিকপ্টার ভ্রমণ করে থাকেন।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো অজানা
কেনিয়ার কর্তৃপক্ষ এখনো দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি। যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে হেলিকপ্টারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কেনিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরও দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। ফলে সর্বশেষ সামবুরু দুর্ঘটনাও দেশটির বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করা হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ এখন ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা এবং ফ্লাইট-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
