উত্তর কোরিয়া নতুন একটি যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা পরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর নতুন অস্ত্রটির পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন দেশটির নেতা কিম জং উন। তবে ঠিক কোন ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এই ঘোষণাটি আসে উত্তর কোরিয়ার দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দুই দিন পর। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, ওয়ানসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। পরে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সেই পরীক্ষাকে নতুন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা হিসেবে বর্ণনা করে।
নতুন অস্ত্র নিয়ে বিস্তারিত গোপন রাখল পিয়ংইয়ং
কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন অস্ত্রটির পরীক্ষা দেশটির অস্ত্রপ্রযুক্তির অগ্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কিম জং উন পরীক্ষাটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং উত্তর কোরিয়ার সামরিক আধুনিকায়নের অগ্রগতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রকৃতি, পাল্লা, গতি বা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
উত্তর কোরিয়া এর আগেও নতুন অস্ত্র পরীক্ষার সময় সীমিত তথ্য প্রকাশ করেছে। পরে বিভিন্ন ছবি বা সামরিক প্রচারসামগ্রীর মাধ্যমে অস্ত্রের কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছে। এবারও একই ধরনের কৌশল নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও নতুন পরীক্ষার যোগসূত্র
দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং নতুন যুদ্ধাস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা কাছাকাছি সময়ে আসায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী প্রথমে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কথা জানায়। এরপর উত্তর কোরিয়া রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে পরীক্ষাটিকে নতুন অস্ত্রব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে।
এতে বোঝা যায়, পিয়ংইয়ং শুধু পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করছে না; এগুলোকে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবেও উপস্থাপন করছে। কেসিএনএর ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষাটি উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন চাপ
উত্তর কোরিয়ার নতুন অস্ত্র পরীক্ষা এমন সময়ে হয়েছে যখন কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান নিজেদের সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। পিয়ংইয়ং এসব সহযোগিতাকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও সিউল উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। ফলে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিটি নতুন অস্ত্র পরীক্ষা দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা নজরদারিতে চলে আসে।
কিমের উপস্থিতির তাৎপর্য
পরীক্ষার সময় কিম জং উনের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সাধারণত কিমের উপস্থিতিকে সামরিক প্রকল্পের রাজনৈতিক গুরুত্ব বোঝাতে ব্যবহার করে। নতুন অস্ত্রটির পরীক্ষা সরাসরি তার তত্ত্বাবধানে হয়েছে বলে প্রচার করা সেই বার্তাকেই জোরালো করে।
এখন নজর রয়েছে উত্তর কোরিয়া পরবর্তী সময়ে অস্ত্রটির আরও পরীক্ষা চালায় কি না এবং এর প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করে কি না। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া আসে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
