ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো আবারও ফিলিস্তিনের প্রতি তার দেশের সমর্থন স্পষ্ট করে দিয়েছেন। পূর্ব জাভায় একটি বড় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সরাসরি ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও অতিথিদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া দেখা যায়।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে প্রাবোওর এই বক্তব্য ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানকে নতুন করে সামনে এনেছে।
শতবর্ষের অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের প্রসঙ্গ
পূর্ব জাভার পোনোরোগোতে দারুসসালাম গোন্তর আধুনিক ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রাবোও।
সেখানে ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত আবদেলফাত্তাহ আল-সাত্তারিও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত প্রাবোওকে ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ পরিয়ে দেন। এরপর ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট।
একপর্যায়ে প্রাবোও বলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’। তার এই আহ্বানে উপস্থিত মানুষজনও সাড়া দেন।
ফিলিস্তিনের পাশে শক্তিশালী ইন্দোনেশিয়া
প্রাবোও তার বক্তব্যে শুধু ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনের কথা বলেননি, বরং ইন্দোনেশিয়াকে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গেও বিষয়টি যুক্ত করেছেন।
তার বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—ইন্দোনেশিয়া যত শক্তিশালী হবে, নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতাও তত বাড়বে।
তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলার প্রসঙ্গ তুলে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় শক্তি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অর্থাৎ ফিলিস্তিন প্রশ্নকে তিনি দেশের সামরিক, অর্থনৈতিক ও জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির বৃহত্তর ধারণার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থান
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর একটি ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। দেশটির কূটনীতিতেও ফিলিস্তিন প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
প্রাবোওর সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই ধারাবাহিক অবস্থানকেই আরও দৃশ্যমান করেছে। বিশেষ করে একটি বড় ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতবর্ষ অনুষ্ঠানে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ আহ্বান দেওয়ায় বিষয়টি দেশটির ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি বক্তব্যটির প্রতীকী গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। কেফিয়েহ পরিয়ে দেওয়ার পর প্রাবোওর বক্তব্যে ফিলিস্তিনের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন সরাসরি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অতিথিদের প্রতিক্রিয়াও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট যখন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার আহ্বান জানান, তখন উপস্থিত জনতার কাছ থেকেও সমর্থনের সাড়া পাওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক অবস্থানেও গুরুত্ব
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় রাষ্ট্র হিসেবে দেশটির বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরেও গুরুত্ব পায়।
প্রাবোওর সাম্প্রতিক বক্তব্যে তাই একদিকে ফিলিস্তিনের প্রতি রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত হয়েছে, অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ আহ্বানের মাধ্যমে প্রাবোও আবারও বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ফিলিস্তিন ইস্যু তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।
