তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অঞ্চল পেংহু দ্বীপপুঞ্জে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে তাইওয়ান। সম্ভাব্য চীনা হামলার ক্ষেত্রে পেংহু প্রথম সারির লক্ষ্য হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সেখানে সেনা, ড্রোন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পেংহু দ্বীপপুঞ্জ তাইওয়ান প্রণালির মাঝামাঝি একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে দ্বীপগুলো গুরুত্বপূর্ণ কারণ এগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে কোনো আক্রমণকারী বাহিনী তাইওয়ানের মূল দ্বীপের দিকে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে পেংহুতে তাইওয়ানি সেনাদের প্রস্তুতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। সেখানে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের পাশাপাশি সম্ভাব্য অবতরণ প্রতিহত করার প্রশিক্ষণও জোরদার করা হচ্ছে।
তাইওয়ানের সামরিক পরিকল্পনায় শুধু শত্রুর হামলা ঠেকানো নয়, সম্ভাব্য আক্রমণকারী বাহিনীর প্রস্তুতি পর্যায়েই আঘাত করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণে ড্রোন প্রযুক্তি ও দূরপাল্লার অস্ত্রকে প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পেংহুতে বেসামরিক জনগণকেও জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে জরুরি সরবরাহ, চিকিৎসা সহায়তা এবং অন্যান্য নাগরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগের অধিকারও সংরক্ষণ করে। অন্যদিকে তাইওয়ান নিজেদের কার্যত স্বশাসিত ব্যবস্থা বজায় রেখেছে এবং যেকোনো সামরিক হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে পেংহু দ্বীপপুঞ্জের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কোনো সংঘাত শুরু হলে চীনা বাহিনী সরাসরি তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণের আগে পেংহু দখলের চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। যদিও যুদ্ধের বাস্তব পরিস্থিতি কী হবে, তা নির্ভর করবে চীনের সামরিক পরিকল্পনা ও তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা কৌশলের ওপর।
তাইওয়ানের সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে বেইজিং নিয়মিত আপত্তি জানিয়ে থাকে। চীনের দৃষ্টিতে এসব কর্মকাণ্ড স্বাধীনতার দিকে তাইওয়ানের অগ্রসর হওয়ার অংশ। তাইওয়ানের দৃষ্টিতে এগুলো আত্মরক্ষার প্রস্তুতি।
এর ফলে তাইওয়ান প্রণালিতে একটি জটিল সামরিক ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। একদিকে চীনের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে তাইওয়ান ছোট আকারের কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণ করছে।
পেংহুতে বর্তমান প্রস্তুতি তাই শুধু একটি দ্বীপের প্রতিরক্ষা নয়; এটি তাইওয়ানের সামগ্রিক যুদ্ধ-প্রতিরোধ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ভবিষ্যতে চীন-তাইওয়ান সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হলে পেংহু দ্বীপপুঞ্জ আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম প্রধান নজরকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
