দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলে ফের রাজত্ব কায়েম করেছে ভিয়েতনাম। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুই লেগের রোমাঞ্চকর ASEAN Cup ফাইনালে জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে তারা। ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হলেও দুই ম্যাচ মিলিয়ে ৪-২ গোলের অ্যাগ্রিগেট জয় পায় ভিয়েতনাম।
এই মহারণের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতি। ফাইনাল দেখতে তিনি হ্যানয়ে পৌঁছান এবং মাই দিঙ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি উপভোগ করেন।
ফুটবল নিয়ে ভিয়েতনামের মানুষের উন্মাদনা যে কতটা তীব্র, সেটিও চোখে পড়ে ফাইনালের সময়। ম্যাচকে ঘিরে হ্যানয়ের রাস্তায় তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। ভিয়েতনামের সমর্থকদের আবেগ ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসায় মুগ্ধ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন ইনফান্তিনো।
ফাইনালের প্রথম লেগেই ভিয়েতনাম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করে। দ্বিতীয় লেগে থাইল্যান্ড ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত দুই দল ২-২ গোলে ড্র করে। ফলে অ্যাগ্রিগেটে ভিয়েতনামের জয় নিশ্চিত হয়।
এই জয় ভিয়েতনামের ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করেছে। পরপর দুইবার ASEAN Cup জয়ের মাধ্যমে দলটি প্রমাণ করেছে যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলে তাদের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে।
থাইল্যান্ড অবশ্য পুরো সিরিজে সহজ প্রতিপক্ষ ছিল না। দুই দলের লড়াই বরাবরই ASEAN অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই ফাইনালকে ঘিরে দর্শক ও সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উত্তেজনা।
ইনফান্তিনোর উপস্থিতি ম্যাচটির আন্তর্জাতিক গুরুত্বও বাড়িয়ে দেয়। ফিফা প্রধানের সফরের সময় ভিয়েতনামের ফুটবল অবকাঠামো, জাতীয় দলের সাফল্য এবং সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
ভিয়েতনামের কোচ কিম সাং-সিকের নেতৃত্বেও দলটি ধারাবাহিক সাফল্য দেখাচ্ছে। ফিফার পক্ষ থেকেও দলের সাম্প্রতিক সাফল্যকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে এই ফাইনাল শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না; এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারও একটি বড় উদাহরণ। ভিয়েতনামের রাস্তায় লাখো মানুষের উৎসব আর স্টেডিয়ামের উত্তেজনা দেখিয়ে দিয়েছে—ASEAN অঞ্চলে ফুটবল এখন শুধু খেলা নয়, এটি জাতীয় আবেগেরও বড় অংশ।
