ইয়েমেনে আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে যুদ্ধ। জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, মাত্র এক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে ১৬৪ জন নিহত এবং ৫১৬ জন আহত হয়েছেন। অর্থাৎ ১৩ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বরের মাত্র ছয় দিনে মোট ৬৮০ জন হতাহত হয়েছেন। নতুন এই পরিসংখ্যান ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধকে আবারও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
ছয় দিনে ৬৮০ হতাহত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ১৩ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইয়েমেনে ১৬৪ জন নিহত এবং ৫১৬ জন আহত হয়েছেন।
এর ফলে ৬ আগস্ট থেকে হিসাব করলে ওই সময়ের মধ্যে মোট হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৭২। এর মধ্যে নিহত ৬৭৪ এবং আহত ২ হাজার ৯৯৮ জন।
এই সংখ্যা শুধু একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধক্ষেত্রের নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষের সম্মিলিত চিত্র।
লাহজে ভয়াবহ পরিস্থিতি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাহজ প্রদেশ বর্তমানে সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রগুলোর অন্যতম। সেখানে মাত্র ছয় দিনে ৫৮ জন নিহত এবং ২২৬ জন আহত হয়েছেন।
অর্থাৎ এক সপ্তাহের মোট হতাহতের একটি বড় অংশ এসেছে এই একটি অঞ্চল থেকেই। চিকিৎসা অবকাঠামোর ওপরও এতে চাপ বাড়ছে।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ, অর্থ সংকট ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে দুর্বল। নতুন করে সংঘর্ষ বাড়লে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
বাস্তুচ্যুতির সংখ্যাও বাড়ছে
শুধু প্রাণহানি নয়, সংঘর্ষের কারণে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাতটি প্রদেশে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
অনেক পরিবার এর আগেও যুদ্ধের কারণে একাধিকবার ঘর ছেড়েছে। ফলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি তাদের জন্য আরও বড় সংকট তৈরি করছে।
খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের প্রয়োজন একসঙ্গে বাড়ায় মানবিক সংস্থাগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে।
বাব আল-মান্দাব ঘিরে নতুন লড়াই
ইয়েমেনের সংঘাতের সাম্প্রতিক তীব্রতার সঙ্গে দেশটির পশ্চিমাঞ্চল ও বাব আল-মান্দাবের কৌশলগত অবস্থানের সম্পর্ক রয়েছে।
হুথি বাহিনী পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।
বাব আল-মান্দাব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই পথের কাছে সংঘর্ষ বাড়লে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও পণ্য পরিবহনেও প্রভাব পড়তে পারে।
মানবিক সহায়তায় নতুন চাপ
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিও জানিয়েছে, ইয়েমেনে ক্ষুধা ও মানবিক সংকট বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে তাদের কার্যক্রম বাড়াতে হচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।
অর্থাৎ সামরিক সংঘর্ষের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটও গভীর হচ্ছে।
৬৮০ জনের এক সপ্তাহের হতাহতের সংখ্যা তাই শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। এর পেছনে রয়েছে নিহত মানুষের পরিবার, আহতদের চিকিৎসা, ঘরহারা মানুষের নতুন আশ্রয়ের প্রয়োজন এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধের মধ্যে টিকে থাকার সংগ্রাম।
যুদ্ধ দ্রুত থামানো না গেলে ইয়েমেনের এই নতুন সংঘর্ষ দেশটির মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলতে পারে।
