যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার বিশ্বখ্যাত গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কে আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রবল বর্ষণের পর হঠাৎ নেমে আসা পানির স্রোতে পর্যটক ও হাইকাররা বিপদে পড়েন। উদ্ধারকারীরা প্রায় ৮০ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হলেও অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক করিডর এবং ফ্যান্টম র্যাঞ্চের আশপাশে। পাহাড়ি উপত্যকার সংকীর্ণ ভূপ্রকৃতির কারণে হঠাৎ আসা পানির স্রোত দ্রুত ভয়াবহ আকার নেয়।
নিহত দুই ব্যক্তির পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা টেক্সাসের বাসিন্দা এবং বন্ধু ছিলেন। পরিবারের সদস্য ও কর্তৃপক্ষ তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাঁদের সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির সন্ধানে অভিযান চলছে।
বন্যার সময় অনেক পর্যটক ও হাইকার নিচের উপত্যকা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও গাছের ধ্বংসাবশেষও নেমে আসে। এতে হাঁটার পথ ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কিছু এলাকায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি নিখোঁজদের তালিকা তৈরির কাজ করছে। সমস্যা হলো, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের অনেক দিনের হাইক বা ছোট ভ্রমণের জন্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হয় না। ফলে বন্যার সময় ঠিক কতজন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছিলেন, তা নির্ধারণ করা কঠিন।
কর্তৃপক্ষ তাই জনসাধারণের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছে। বন্যার দিন ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন বা আশপাশে কারও উপস্থিতির তথ্য থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে।
বন্যায় শুধু প্রাণহানি হয়নি, অবকাঠামোরও বড় ক্ষতি হয়েছে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের গুরুত্বপূর্ণ পানির পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পার্কের কিছু এলাকায় পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে হোটেল, লজ ও পর্যটন কার্যক্রমও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বন্যার পর বেশ কিছু ট্রেইল ও থাকার জায়গা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের বিকল্প থাকার ব্যবস্থা খুঁজতে হচ্ছে। অনেক পর্যটক দীর্ঘদিন আগে বুকিং করেও এখন নির্ধারিত জায়গায় থাকতে পারছেন না।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, অ্যারিজোনায় আগস্ট মাসে মৌসুমি বজ্রঝড় ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মতো গভীর ও সংকীর্ণ ভূপ্রকৃতিতে কয়েক মিনিটের মধ্যে পানির স্রোত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। উপরিভাগে বৃষ্টি হলেও নিচের ক্যানিয়নে অবস্থানরত মানুষ অনেক সময় ঝুঁকির মাত্রা বুঝতে পারেন না।
এই ঘটনায় পর্যটকদের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে—বিশেষ করে বর্ষাকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও ফ্ল্যাশ ফ্লাড সতর্কতা উপেক্ষা না করার জন্য।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা হলেও এর সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভূপ্রকৃতিগত ঝুঁকিও রয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রকৃতির এই বিশাল উপত্যকায় আবহাওয়ার কয়েক ঘণ্টার পরিবর্তনও জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।
