প্রায় নয় মাস সমুদ্রেই কাটানোর পর অবশেষে থাইল্যান্ডে নোঙর করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল পারমাণবিকচালিত বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln। টানা ২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকার পর ২ সেপ্টেম্বর জাহাজটি থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছায়। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিনকে নিয়ে এই দীর্ঘ মোতায়েনকে মার্কিন নৌবাহিনীর সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম কঠিন অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর জাহাজটির থাইল্যান্ডে প্রবেশ নাবিকদের জন্য মূলত বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্রুরা প্রায় নয় মাস নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ বন্দরে ছুটি কাটানোর সুযোগ পাননি। এবার কয়েক দিনের জন্য তারা জাহাজ থেকে নেমে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
USS Abraham Lincoln-এর এই দীর্ঘ মোতায়েনের পেছনে ছিল পরিবর্তনশীল মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড তীব্র হওয়ার পর বিমানবাহী রণতরীটি ওই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাহাজটির সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজ ও বিমানগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে কাজ করেছে।
তবে দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকার কারণে ক্রুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। কিছু প্রতিবেদনে খাবার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপের কথা বলা হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী অবশ্য এসব অভিযোগের কিছু বিষয়কে খাটো করে দেখেছে।
থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পর নাবিকদের বড় একটি অংশের গন্তব্য হতে পারে পর্যটননগরী পাতায়া। মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের জন্য পাতায়া বহু বছর ধরেই জনপ্রিয় বিশ্রামকেন্দ্র। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকেই এই শহরের সঙ্গে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
এবার কয়েক হাজার নাবিকের আগমন স্থানীয় ব্যবসার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং পর্যটন ব্যবসায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিপুলসংখ্যক মার্কিন নাবিকের কাছ থেকে অতিরিক্ত আয় প্রত্যাশা করছেন।
এই সফর একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-থাইল্যান্ড সামরিক সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসও সামনে এনেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার থাইল্যান্ড। দুই দেশের সামরিক মহড়া, প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দীর্ঘদিনের।
USS Abraham Lincoln-এর এই বিরতি অবশ্য স্থায়ী নয়। বিশ্রাম শেষে জাহাজটির নিজ ঘাঁটির দিকে ফেরার কথা রয়েছে। এর জায়গায় মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে আরেক মার্কিন বিমানবাহী রণতরী, USS George Washington।
২৮৬ দিনের এই দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা তাই শুধু একটি বিমানবাহী রণতরীর রেকর্ডসম দীর্ঘ মোতায়েনের গল্প নয়; এটি একই সঙ্গে যুদ্ধকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ওপর তৈরি হওয়া অপারেশনাল চাপেরও প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘ অভিযান শেষে থাইল্যান্ডের বন্দর এখন হাজারো মার্কিন নাবিকের জন্য সাময়িক স্বস্তির জায়গা হয়ে উঠেছে।
