জাম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দেশজুড়ে যখন ফল গণনা চলছিল, তখনই নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও ব্যালট পেপার চুরির অভিযোগে ভোট গণনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল ঘোষণা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
১৩ আগস্ট জাম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন বিরোধী নেতা ব্রায়ান মুনডুবিলে। নির্বাচন শুরুর আগে থেকেই দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল উত্তপ্ত। সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং প্রচারে নানা বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ উঠেছিল। সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার ফল আসতে শুরু করে। কিন্তু কিছু এলাকায় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতা এবং ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা সামনে আসায় নির্বাচন কমিশন জাতীয় পর্যায়ে ভোট গণনা স্থগিত করে। প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা ব্রাউন কাসারো জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। জাম্বিয়ায় সাধারণত নির্বাচন তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ হলেও এবার নির্বাচনের আগে থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল বেশি। ভোট গণনা স্থগিত হওয়ায় বিরোধী শিবিরের সন্দেহ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিচিলেমা জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সরকারি ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছেন। অন্যদিকে বিরোধী প্রার্থী মুনডুবিলে নিজেকে বিজয়ী দাবি করেছেন, যদিও তাঁর দাবির পক্ষে এখনো কোনো সরকারি প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। ফলে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কে জয়ী হয়েছেন তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী ১৫ থেকে ১৭ আগস্ট ফল যাচাই এবং ১৭ আগস্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণার কথা ছিল। তবে ভোট গণনা স্থগিত হওয়ার কারণে এই সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে জাম্বিয়ার এই নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবেও নজর কেড়েছে। ভোটের ফলের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। গণনা পুনরায় শুরু হলে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই নির্ধারণ করবে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পরবর্তী অধ্যায়।
