দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ১৩ আগস্টের এই নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন কি না, সেটিই ছিল প্রধান প্রশ্ন। ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে দেশটি।
জাম্বিয়ার প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশের মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন। নির্বাচনের আগে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান এবং সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার ছিল ভোটারদের আলোচনার প্রধান বিষয়।
হাকাইন্দে হিচিলেমা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের অর্থনীতিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেন। আন্তর্জাতিক ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তার সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এসব সংস্কারের সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা পৌঁছেছে, তা নিয়ে দেশটির ভেতরে বিতর্ক রয়েছে।
নির্বাচনের সময় মানুষের একটি বড় অংশ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে হিচিলেমার জন্য নির্বাচনটি শুধু রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার পরীক্ষা নয়, তার অর্থনৈতিক নীতিরও মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটগ্রহণের দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে। ভোট শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়। নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক দলগুলো ফলাফলের দিকে নজর রাখছে।
জাম্বিয়ার নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তামা উৎপাদনকারী দেশ। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির জন্য তামার চাহিদা বাড়ায় জাম্বিয়ার অর্থনৈতিক গুরুত্বও বেড়েছে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের কাছেই জাম্বিয়া গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির খনিজ সম্পদ এবং তামা খাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের প্রতিযোগিতা রয়েছে। ফলে নতুন সরকার দেশের খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কী নীতি নেয়, তা আন্তর্জাতিক মহলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নির্বাচনে হিচিলেমার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট এডগার লুঙ্গুর দলীয় শিবিরের প্রার্থী মুসাম্বা মুম্বাইলসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা। বিরোধীরা সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে।
অন্যদিকে হিচিলেমা তার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়কে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রকাশিত হলে জাম্বিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই স্পষ্ট হবে। হিচিলেমা জয়ী হলে তার অর্থনৈতিক সংস্কার আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আর বিরোধীরা জয়ী হলে দেশটির অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
জাম্বিয়ার নির্বাচন তাই শুধু একটি আফ্রিকান দেশের ক্ষমতা পরিবর্তনের ঘটনা নয়। তামা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা এবং আফ্রিকার অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের কারণে এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
