অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে প্রাণঘাতী H5N1 বার্ড ফ্লু ভাইরাসের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ব্যাপক পাখি মৃত্যুর’ দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পার্থক্য রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে H5 বার্ড ফ্লুর বেশ কয়েকটি শনাক্তকরণ হলেও এখন পর্যন্ত ব্যাপক বন্যপাখি মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিউজিল্যান্ডেও ব্যাপক পাখি মৃত্যুর প্রমাণ নেই।
অস্ট্রেলিয়ায় জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত H5 উচ্চ-সংক্রামক বার্ড ফ্লুর ১৭টি নিশ্চিত বা সম্ভাব্য শনাক্তকরণ পাওয়া যায়। এগুলোর প্রায় সবই উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া বন্য সামুদ্রিক পাখির মধ্যে শনাক্ত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কৃষি খাতের পোলট্রি বা বাণিজ্যিক উৎপাদন ব্যবস্থায় ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। মানুষের জন্যও ঝুঁকি কম বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে অস্ট্রেলিয়ায় ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ঘটনাই নিউজিল্যান্ডের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ পরিযায়ী সামুদ্রিক পাখি দুই দেশের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাব্য বাহক হতে পারে। নিউজিল্যান্ডে জুলাইয়ে প্রথম H5N1 শনাক্ত হয় একটি ব্রাউন স্কুয়া সামুদ্রিক পাখির মধ্যে। সেটি ওয়েলিংটনের কাছে একটি সৈকতে পাওয়া গিয়েছিল।
এরপর নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ নজরদারি জোরদার করে। জুলাইয়ের শেষের সরকারি আপডেট অনুযায়ী দেশটিতে H5 বার্ড ফ্লুর দুটি নিশ্চিত শনাক্তকরণ ছিল। তবে এরপর নতুন শনাক্তকরণ পাওয়া যায়নি এবং বন্যপ্রাণীর মধ্যে ব্যাপক মৃত্যুর কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। পোলট্রি খামারেও ভাইরাস শনাক্ত হয়নি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দেশটির বিরল ও বিপন্ন পাখিদের রক্ষায়। নিউজিল্যান্ডের Department of Conservation পাঁচটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানীয় পাখির প্রজনন-গোষ্ঠীর প্রায় ৩০০ পাখিকে টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কাকাপো, তাকাহে, শোর প্লোভার, ব্ল্যাক স্টিল্ট এবং অরেঞ্জ-ফ্রন্টেড প্যারাকিট।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, H5N1 যদি নিউজিল্যান্ডের বন্য পাখিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে দেশটির এমন কিছু প্রজাতি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে যাদের সংখ্যা ইতোমধ্যেই অত্যন্ত কম। দ্বীপভিত্তিক পরিবেশে বিবর্তিত অনেক নিউজিল্যান্ডের পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও সংক্রমণ-ঝুঁকি নিয়ে আলাদা উদ্বেগ রয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অসুস্থ বা মৃত পাখি স্পর্শ না করা এবং একসঙ্গে তিন বা তার বেশি অসুস্থ বা মৃত বন্যপাখি দেখা গেলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
অর্থাৎ পরিস্থিতি এখনো ‘ব্যাপক মহামারি’ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিন্তু পরিযায়ী পাখির চলাচল এবং ভাইরাসের বিশ্বব্যাপী বিস্তারের কারণে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড—দুই দেশই সম্ভাব্য বড় প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আগেভাগে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
