ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন করে ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগেও অর্থ ব্যয়ের কথা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেন তিনি। নতুন সহায়তার মধ্যে ৮ কোটি কানাডীয় ডলার মানবিক সহায়তার জন্য এবং আরও ২ কোটি ডলার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্যোগে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গাজার জন্য ৮ কোটি ডলার মানবিক সহায়তা
কার্নি জানিয়েছেন, নতুন অর্থের বড় অংশ গাজার মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে। খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখে এই অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা বলেছেন এবং ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল—দুই রাষ্ট্রের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে থাকার দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক কাঠামোর প্রতি কানাডার সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ফিলিস্তিনি পুলিশ প্রশিক্ষণেও অর্থ
নতুন তহবিলের আরও ২ কোটি কানাডীয় ডলার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা উদ্যোগে ব্যয় হবে। এর অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণের জন্য চলমান কানাডীয় কর্মসূচিতে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হবে।
বর্তমানে কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ বা আরসিএমপি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণে সহযোগিতা করছে। পরিস্থিতি নিরাপদ হলে একই ধরনের প্রশিক্ষণ গাজাতেও সম্প্রসারণের প্রস্তুতি রাখছে অটোয়া।
কার্নি বলেছেন, গাজায় এমন কার্যক্রম শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি হতে হবে। অর্থাৎ ঘোষণা হলেও সেখানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হচ্ছে না।
দুই রাষ্ট্রের সমাধানে কানাডার অবস্থান
কানাডা গত বছর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কার্নির মতে, এক বছর পরও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তার বক্তব্যে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
নতুন সহায়তার ঘোষণা তাই শুধু জরুরি মানবিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়। এর একটি অংশ ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি প্রশাসনের নিরাপত্তা সক্ষমতা তৈরির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কানাডা ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নতুন ১০ কোটি ডলারের ঘোষণায় সেই সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ল।
জাতিসংঘ অধিবেশনের সময় কানাডার এই ঘোষণা এমন এক পরিস্থিতিতে এলো, যখন গাজার মানবিক সংকট এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা আবারও জোরালো হয়েছে। অটোয়া বলছে, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমেও ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে চায় কানাডা।
