হোয়াইট হাউসের দরজা থেকে কয়েকটি বড় মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে এবার আদালতের হস্তক্ষেপ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে আটকে দিয়ে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া এই আদেশে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের প্রেস অনুমতিও দ্রুত পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়। ট্রাম্প প্রশাসন ওই তিন প্রতিষ্ঠানকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার পর সংবাদমাধ্যমগুলো আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, সংবাদ প্রকাশের ধরন ও কভারেজের কারণে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।
কী ঘটেছিল
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাওয়ের হোয়াইট হাউস প্রবেশাধিকার বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। ট্রাম্প প্রকাশ্যে এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন এবং সেগুলোকে মিথ্যা সংবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এরপর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। তিন সংবাদমাধ্যমই সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। তাদের যুক্তি ছিল, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে এবং সংবাদ প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর কারণে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
আদালতের নির্দেশ
মার্কিন জেলা বিচারক টিমোথি কেলি প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছেন। তার আদেশে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর প্রবেশাধিকার ও সাংবাদিকদের প্রেস অনুমতি পুনরায় কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই নির্দেশ আপাতত সাময়িক। ফলে মামলার মূল আইনি প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। বিচারক বিশেষভাবে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের অনুমতি বাতিলের আগে তাদের যথেষ্ট নোটিশ বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও আদালতের বিবেচনায় এসেছে।
প্রশাসনের বক্তব্য কী
ট্রাম্প প্রশাসন আদালতে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। বিচার বিভাগের আইনজীবীরা বলেছেন, হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকারকে তারা সাংবিধানিক অধিকার নয়, বরং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো সংবেদনশীল বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য প্রকাশ করেছে এবং এ কারণে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ মূলত তাদের সংবাদ কভারেজের সঙ্গে সম্পর্কিত। তারা প্রথম সংশোধনীর অধীনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেছে। তবে এই পর্যায়ে আদালত ওই সাংবিধানিক দাবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
১৪ দিনের জন্য নতুন পরিস্থিতি
আদালতের বর্তমান নির্দেশের ফলে নিষিদ্ধ তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা আপাতত হোয়াইট হাউসে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এই ব্যবস্থা স্থায়ী কিনা, সেটি পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।
বিচারক কেলি প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তির প্রাথমিক ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মামলাটি দায়ের হওয়ার আগে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত কারণ হিসেবে দেখানোর পর্যাপ্ত প্রমাণ রেকর্ডে ছিল কি না, সেটি স্পষ্ট নয়।
ফলে এখন লড়াইটি শুধু তিনটি সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউস প্রবেশাধিকার নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই। মামলাটি প্রেস স্বাধীনতা, প্রশাসনের ক্ষমতা, সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার এবং নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া—এসব বৃহত্তর সাংবিধানিক প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে।
আদালতের এই সাময়িক আদেশের পর ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রশ্ন। আর হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের বিরোধ কোন পর্যায়ে গিয়ে শেষ হয়, সেটিই এখন নজরে রাখার বিষয়।
