যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকির মাত্রা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি বিতর্কিত ভিডিওতে ট্রাম্পের কনিষ্ঠ ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তার মাথার জন্য ১ কোটি মার্কিন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রোববার প্রচারিত ওই ভিডিওটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম থেকে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল— “Where and how should we kill Barron Trump?” বা ‘কোথায় এবং কীভাবে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যা করা উচিত?’।
ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওটিতে ২০ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্পের চলাফেরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, তার নিরাপত্তায় থাকা গাড়ি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, ব্যারনের গতিবিধি ‘সম্পূর্ণভাবে নজরদারিতে’ রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভিডিওটিতে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণার দাবিও করা হয়। তবে এই পুরস্কার ঘোষণার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ইউরোনিউজ।
ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, এক নারী নাকি সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে ব্যারনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যারন অনলাইন গেমিং ও যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিরাপত্তার নজরের বাইরে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এসব দাবির সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ব্যারন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের একমাত্র সন্তান। তিনি বর্তমানে নিউইয়র্কে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন এবং পরিবারের সদস্য হিসেবে সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা পাচ্ছেন।
ঘটনাটি এমন এক সময় সামনে এল, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মাধ্যমে ট্রাম্প এবং তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক হুমকিমূলক প্রচারণা দেখা গেছে।
এর আগে জুলাইয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পকে লক্ষ্য করেও একই ধরনের একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ওই প্রচারণায় তার চলাফেরা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কথিত দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সময়ে তেহরানে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের ঘিরে ভয়াবহ বার্তাসংবলিত বিলবোর্ডও দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের পরিবারের একজন সদস্যকে সরাসরি লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এমন প্রচারণা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও বিপজ্জনক মাত্রা যোগ করেছে। যদিও ভিডিওতে করা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশিরভাগ দাবির সত্যতা নিশ্চিত হয়নি, তবু একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্যকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এই ভিডিও কি কেবল মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও রাজনৈতিক প্রচারণা, নাকি এর পেছনে রয়েছে বাস্তব কোনো হুমকি? ১ কোটি ডলারের কথিত পুরস্কারের দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাত এখন আর শুধু কূটনৈতিক বক্তব্য, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানানোর এই প্রচারণা দুই দেশের উত্তেজনাকে আরও বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিতে পারে।
