জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইরানকে নিয়ে নজিরবিহীন কঠোর বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ থামাতে সমঝোতার সম্ভাবনার কথা বললেও একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চুক্তি না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রায় ৩৫ মিনিটের বক্তব্যে ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তবে ভাষণের সবচেয়ে তীব্র অংশ ছিল ইরানকে ঘিরে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন একটি বড় সিদ্ধান্ত—ইরানের সঙ্গে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো, যাতে দেশটি ভবিষ্যতে পুনর্গঠনের সুযোগ পায়, নাকি আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া।
ইরানকে ঘিরে কঠোর হুঁশিয়ারি
ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা হলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত সমঝোতা হয়নি।
এরপরই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বলেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত ইরান একটি চুক্তিতে রাজি হবে বলে তিনি মনে করেন।
ট্রাম্প বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ইরানের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল দেখার অপেক্ষায় থাকতে পারেন। তবে তিনি বলেন, তিনি নিজে ওই নির্বাচনে প্রার্থী নন।
যুদ্ধের সিদ্ধান্তের পক্ষে ট্রাম্পের যুক্তি
জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্প তার প্রশাসনের সামরিক সিদ্ধান্তকে আগের মার্কিন সরকারগুলোর নীতির সঙ্গে তুলনা করেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যেসব আন্তর্জাতিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়নি, সেগুলোতে তার প্রশাসন সরাসরি পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, সমস্যা দীর্ঘদিন ফেলে রাখলে তা আরও জটিল হয়ে যায়। এ কারণেই তার প্রশাসন কথার বদলে পদক্ষেপ নেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে।
ইরান ছাড়াও ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা পরিস্থিতি এবং কিউবা নিয়েও বক্তব্য দেন ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি গাজায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি।
ভাষণের পরও যোগাযোগের ইঙ্গিত
জাতিসংঘে কঠোর বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনার নতুন ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, তার জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ট্রাম্প বৈঠকটিকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, আলোচনার ফলাফল পরে বোঝা যাবে। ফলে একদিকে সামরিক চাপের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে গোপন বা পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ—দুই পথই একই সঙ্গে খোলা রাখছে ওয়াশিংটন।
জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের বক্তব্য তাই শুধু ইরানকে দেওয়া হুঁশিয়ারি নয়; বরং যুদ্ধের পাশাপাশি সম্ভাব্য সমঝোতার দরজাও খোলা রাখার একটি বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে। এখন মূল প্রশ্ন, কূটনৈতিক যোগাযোগ কতটা এগোয় এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর মতো কোনো সমঝোতা আদৌ হয় কি না।
