পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে লাহোরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআইয়ের পরিকল্পিত ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ কর্মসূচির কয়েক দিন আগে এই গ্রেপ্তারকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, লাহোরের জেলা প্রশাসনের একটি নোটিশে আলিমা খানকে গ্রেপ্তার করে ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাকে তার লাহোরের বাসভবন থেকে আটক করা হয়।
২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির আগে গ্রেপ্তার
ইমরান খানের দল ২৭ সেপ্টেম্বর একটি বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে। দলটির ঘোষিত কর্মসূচির অন্যতম দাবি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্তি। সরকার অবশ্য দলটিকে কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা জানিয়েছে।
আলিমা খান দীর্ঘদিন ধরে ভাই ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে প্রকাশ্যে সক্রিয়। তার গ্রেপ্তারের ফলে পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
শুধু আলিমা নন, অন্য বোনদের নিয়েও খবর
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে আলিমা খানের পাশাপাশি ইমরান খানের আরও দুই বোন উজমা খান ও নরিন খানের আটকের খবরও এসেছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার বা আটকের পরিস্থিতি ও আইনি অবস্থার বিবরণে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
এ কারণে নিশ্চিতভাবে যে তথ্যটি পাওয়া যাচ্ছে, তা হলো আলিমা খানকে লাহোরে আটক করে ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা। পিটিআই এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ইমরান খান এখনো কারাগারে
ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন এবং তার রাজনৈতিক দল তার মুক্তির দাবি করে আসছে। তার পরিবার ও দলীয় নেতারা বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন।
ইমরানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার কারণে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। পিটিআইয়ের দাবি, তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত; সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে থাকে।
রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে সরকারের সতর্কতা
২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির আগে ইমরানের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করেছে। সরকার পিটিআইকে কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করেছে। অন্যদিকে দলটি তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খান ও পিটিআইকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। নতুন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ আবারও রাস্তায় নামতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
লাহোর থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত নজর
পিটিআইয়ের ঘোষিত কর্মসূচির প্রভাব শুধু লাহোরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দলটির রাজনৈতিক সমর্থকদের একটি অংশ রাজধানী ইসলামাবাদমুখী হওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আলিমা খানের গ্রেপ্তারের পর পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে আরও কর্মসূচি বা প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। তবে ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি পর্যন্ত পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন।
