রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল অনুমোদন করার পর ভারতের জন্য বাণিজ্যিক চাপ আরও বেড়েছে।
বিলটি এখনো সরাসরি ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেনি। তবে এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে রুশ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
কী সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়া-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বিল অনুমোদন করেছে। ভোটে বিলটি ২৬২-১৫৯ ব্যবধানে পাস হয়।
বিলে রাশিয়ার জ্বালানি কিনে মস্কোর অর্থনীতিকে সহায়তা করছে বলে বিবেচিত দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ভারত ও চীন বিশ্বের বড় রুশ তেল ক্রেতাদের মধ্যে থাকায় তাদের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
তবে আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে আরও আইনগত ও প্রশাসনিক ধাপ রয়েছে। ফলে ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক এখনই কার্যকর হয়ে গেছে—এমনটি বলা ঠিক হবে না।
ভারতের জন্য কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
রাশিয়া থেকে তুলনামূলকভাবে কম দামে অপরিশোধিত তেল কেনার মাধ্যমে ভারত গত কয়েক বছরে নিজের জ্বালানি আমদানির উৎসে বড় পরিবর্তন এনেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ তেলের দাম ও বাজারব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে। ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ায়।
এতে ভারতের তেল শোধনাগারগুলো লাভবান হওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারেও সরবরাহ বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভারতকে একই সঙ্গে তেল কেনা ও মার্কিন বাজারে রপ্তানির খরচ বিবেচনা করতে হবে।
১০০ শতাংশ শুল্ক মানে কী
ধরা যাক, কোনো ভারতীয় পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে ওই পণ্যের ওপর আরও ১০০ ডলার পর্যন্ত শুল্ক বসতে পারে। বাস্তবে এর প্রভাব পণ্যের ধরন, শুল্ক কাঠামো এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এ ধরনের শুল্ক ভারতের মার্কিন বাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে যেসব শিল্প যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য বাড়তি খরচ তৈরি হতে পারে।
ভারত কী করবে
নয়াদিল্লির সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। একদিকে রুশ তেল আমদানি অব্যাহত রাখার মাধ্যমে জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষতি কমানো—দুই বিষয়কেই একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে মার্কিন আইন কার্যকর হলে কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্ব আরও বাড়বে।
বিশ্ব তেলবাজারেও প্রভাব পড়তে পারে
ভারত রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা। ফলে ভারত যদি রুশ তেল কেনা কমায়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার তেল বিক্রির কাঠামোও প্রভাবিত হতে পারে।
আবার ভারত যদি আমদানি অব্যাহত রাখে এবং মার্কিন শুল্কের মুখে পড়ে, তাহলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।
এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদিত বিল শেষ পর্যন্ত কীভাবে আইন হয় এবং প্রেসিডেন্ট সেটি কীভাবে প্রয়োগ করেন।
অতএব, ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি এখন বাস্তব সম্ভাবনা হলেও সেটিকে কার্যকর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সময় এখনো আসেনি। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এবং ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি আলোচনাই নির্ধারণ করবে ভারতের জন্য এর প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা বড় হবে।
