চীনের সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি ও সামরিক বাহিনী থেকে দুই শীর্ষ জেনারেল ঝাং ইউশিয়া ও লিউ ঝেনলি বহিষ্কৃত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় আনুগত্য ভঙ্গ, দুর্নীতি এবং গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি চীনের সামরিক নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে সামনে এসেছে।
ঝাং ইউশিয়া ছিলেন কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগীদের একজন হিসেবে পরিচিত। লিউ ঝেনলি ছিলেন কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সদস্য ও যৌথ স্টাফ বিভাগের প্রধান। দুজনের বিরুদ্ধেই তদন্ত শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল জানুয়ারিতে। আগস্টে তাদের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ
চীনা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ শুধু আর্থিক অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি নথি ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, দুই সাবেক জেনারেল দলীয় রাজনৈতিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করেছেন, গোষ্ঠী ও পক্ষ তৈরি করেছেন এবং দলের প্রতি যথাযথ আনুগত্য দেখাননি। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও আনা হয়েছে।
চীনা নেতৃত্ব আরও বলেছে, তাদের কথিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিয়ম পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং অবৈধভাবে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ঘটনাও ছিল।
সামরিক বাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান
শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চীনা কমিউনিস্ট পার্টিতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক বাহিনীও এই অভিযানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। একাধিক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা তদন্ত, পদচ্যুতি ও বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন।
তবে ঝাং ইউশিয়ার মতো এত উচ্চপর্যায়ের একজন সামরিক নেতার বিরুদ্ধে দলীয় আনুগত্যের অভিযোগ বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে চীনের সামরিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন।
কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনে পরিবর্তন
দুই জেনারেলকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের নেতৃত্ব কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। চীনের সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ড কাঠামো হিসেবে এই কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক তদন্ত ও পদচ্যুতির ফলে এর সক্রিয় নেতৃত্বের কাঠামো সংকুচিত হয়েছে।
বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর তাদের মামলা সামরিক প্রসিকিউটরদের কাছে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে সামনে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।
অক্টোবরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে সিদ্ধান্ত
এই পদক্ষেপের সময়ও নজর কেড়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন বা গুরুত্বপূর্ণ প্লেনাম ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে দলীয় শাসন, আত্মশুদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ফলে দুই শীর্ষ জেনারেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অক্টোবরে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠক—দুটি ঘটনাই চীনের অভ্যন্তরীণ দলীয় শৃঙ্খলা ও সামরিক ব্যবস্থাপনায় কঠোরতার ধারাবাহিকতার দিকে ইঙ্গিত করছে।
