ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে বৃহস্পতিবার রাতের নৈশভোজে একই টেবিলে বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দিনের দীর্ঘ বৈঠক, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা এবং তাইওয়ানসহ নানা স্পর্শকাতর ইস্যুর পর জমকালো এই নৈশভোজ হয়ে উঠল দুই পরাশক্তির সম্পর্কের উষ্ণতা প্রদর্শনের বিশেষ মঞ্চ।
নৈশভোজে বন্ধুত্বের বার্তা
২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি এবং তাঁর স্ত্রী ফেং লিয়ুয়ানকে স্বাগত জানান। দিনের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর নৈশভোজে ট্রাম্প দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি শির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগের কথাও তুলে ধরেন। এর আগে তিনি বৈঠকটিকে ‘দারুণ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।
শিও নৈশভোজে দেওয়া বক্তব্যে আতিথেয়তার জন্য ট্রাম্প ও মেলানিয়াকে ধন্যবাদ জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের উন্নয়ন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
মেনুতেও দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধন
নৈশভোজের খাবারের তালিকাতেও ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সংস্কৃতির মিশেল। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, খাবারে মূলত মার্কিন উপকরণ ব্যবহার করা হলেও চীনা রান্নার সূক্ষ্ম প্রভাব রাখা হয়। শুরুতে পরিবেশন করা হয় হলুদ স্কোয়াশের স্যুপ ও বুনো মাশরুমের পদ। মূল খাবারে ছিল তিলের আবরণ দেওয়া সি-বাস, বেবি বক চয় ও বেগুন। শেষে ছিল ভ্যানিলা ক্রেম্যু, আখরোট ও হোয়াইট হাউসের নিজস্ব মধুর আইসক্রিম।
নৈশভোজের শুরুতে পরিবেশন করা হয় ‘ব্ল্যাঙ্ক দ্য নোয়ার’ স্পার্কলিং ওয়াইন। এর সঙ্গে ১৯৭২ সালে রিচার্ড নিক্সন ও চৌ এনলাইয়ের ঐতিহাসিক ‘শান্তির টোস্ট’-এর স্মৃতির যোগ রয়েছে।
টেবিলে প্রযুক্তি বিশ্বের তারকারাও
এই নৈশভোজের অতিথি তালিকাও ছিল বিশেষভাবে আলোচিত। প্রযুক্তি ও ব্যবসা বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের অনেকে এতে অংশ নেন। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন অ্যামাজনের জেফ বেজোস, টেসলা ও স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক, গুগলের সুন্দর পিচাই, অ্যাপলের টিম কুক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান।
এমন অতিথি তালিকা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ট্রাম্প–শি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি, বিরল খনিজ ও বাণিজ্য ছিল। ফলে নৈশভোজের টেবিলেও কূটনীতির পাশাপাশি প্রযুক্তি ও ব্যবসার বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
জমকালো সন্ধ্যার নেপথ্যে কঠিন আলোচনা
তবে নৈশভোজের উষ্ণ পরিবেশের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বড় মতপার্থক্যগুলো রয়ে গেছে। তাইওয়ান, বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। দিনের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
ফলে ট্রাম্প–শির নৈশভোজ শুধু আনুষ্ঠানিক ভোজ ছিল না; দুই পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেও যোগাযোগ ও সম্পর্কের একটি উষ্ণ আবহ তৈরি করার কূটনৈতিক আয়োজন হিসেবেও এটি সামনে এসেছে। এখন নজর থাকবে, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ পরবর্তী আলোচনায় বাস্তব কোনো অগ্রগতিতে রূপ নেয় কি না।
