রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে মস্কোর ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরোপ করা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। তবে একই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রুশ দুই প্রভাবশালী ধনকুবের মিখাইল ফ্রিডম্যান ও আলিশার উসমানভকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ফলে ব্রাসেলসের নতুন সিদ্ধান্ত একদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি চাপ অব্যাহত রাখলেও অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা নিয়ে ইউরোপের ভেতরের মতপার্থক্যও সামনে এনেছে।
২০২৯ সাল পর্যন্ত বহাল নিষেধাজ্ঞা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিল ২২ সেপ্টেম্বর সিদ্ধান্ত নেয়, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া নিষেধাজ্ঞা আরও ৩৬ মাস কার্যকর থাকবে। এর ফলে বর্তমান ব্যবস্থার মেয়াদ ২০২৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ল।
ইইউর হিসাবে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তিন হাজারের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইউরোপে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ এবং ইউরোপীয় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ বা আর্থিক সম্পদ সরবরাহে নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা রয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকেই ইইউ একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে। এসব ব্যবস্থার লক্ষ্য রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা কমানো, জ্বালানি আয় সীমিত করা এবং সামরিক শিল্পে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও বাজারে প্রবেশাধিকার সংকুচিত করা।
তালিকা থেকে বাদ পড়লেন দুই ধনকুবের
নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে উসমানভ ও ফ্রিডম্যানকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। দুজনই রাশিয়ার অন্যতম পরিচিত ধনী ব্যবসায়ী এবং দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন।
ইইউর এই সিদ্ধান্তের আগে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা ও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। লাটভিয়াও জানিয়েছে, তারা উসমানভ ও ফ্রিডম্যানের বিরুদ্ধে নিজস্ব জাতীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে যাবে।
অর্থাৎ ইইউ পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও সব ইউরোপীয় দেশ একই অবস্থান নেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কোনো সদস্যরাষ্ট্র চাইলে নিজস্ব আইনি কাঠামোর আওতায় আলাদা ব্যবস্থা রাখতে পারে।
রাশিয়ার ওপর চাপ কি কমছে?
দুই ব্যক্তিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা আলোচনায় এলেও ইইউর সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা কাঠামো বহাল থাকছে। বরং তিন বছরের দীর্ঘ মেয়াদ নির্ধারণের মাধ্যমে ব্রাসেলস রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে।
আগে ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলনামূলকভাবে স্বল্প মেয়াদে নবায়ন করা হতো। এবার ৩৬ মাসের মেয়াদ নির্ধারণ করায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ইউরোপীয় চাপ দীর্ঘ সময়ের জন্য নিশ্চিত হলো।
তবে একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা তালিকার নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মতপার্থক্য দেখিয়ে দিল, রাশিয়া নীতিতে ইইউর অভিন্ন অবস্থান থাকলেও প্রতিটি নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হিসাব এক নয়।
ফলে নতুন সিদ্ধান্তের মূল বার্তা দ্বিমুখী—রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউর বড় নিষেধাজ্ঞা কাঠামো বহাল থাকছে, কিন্তু তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে পুনর্মূল্যায়নের দরজাও খোলা রয়েছে।
