রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া। প্রায় সব ভোট গণনার পর দলটি ৫৭ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে এবং ৪৫০ আসনের স্টেট ডুমায় ৩৫৫টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। এর ফলে সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখছে ক্ষমতাসীন দল।
৩৫৫ আসনের পথে ইউনাইটেড রাশিয়া
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর ইউনাইটেড রাশিয়া প্রায় ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ছিল ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ।
নতুন ফল অনুযায়ী, ইউনাইটেড রাশিয়ার আসনসংখ্যা প্রায় ৩৫৫ হতে পারে। ৪৫০ সদস্যের ডুমায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনের বেশি পাওয়া দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে আইন প্রণয়ন ও সাংবিধানিক বিষয়ে বড় ধরনের সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।
এটি পুতিনের রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে সামনে এসেছে।
যুদ্ধের সময়েই নির্বাচন
তিন দিন ধরে চলা এই নির্বাচন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। পুতিন নির্বাচনের আগে ভোটকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনের একটি পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়ার পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং নিউ পিপলসসহ কয়েকটি দল অংশ নেয়। তবে পুতিনবিরোধী শক্তির নির্বাচনী পরিসর সীমিত থাকার কারণে ভোটের প্রতিযোগিতা নিয়ে পশ্চিমা ও রুশ স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিবেশকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
যুদ্ধের প্রভাব কতটা পড়েছে
নির্বাচনের আগে ইউক্রেনের হামলা এবং রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আলোচনায় ছিল। ভোটের শেষ দিনে মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বড় ড্রোন হামলা হয়।
এর ফলে নির্বাচন এবং যুদ্ধ—দুই বিষয় একই সময়ে রাশিয়ার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সরকার এসব হামলাকে ইউক্রেনের সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে তুলে ধরে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
তবে নির্বাচনের ফলাফলে ইউনাইটেড রাশিয়ার ভোটের হার ২০২১ সালের তুলনায় বেড়েছে। দলের আসনসংখ্যাও এমন পর্যায়ে থাকছে, যাতে পুতিনের প্রশাসন ডুমায় শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারে।
পুতিনের জন্য রাজনৈতিক বার্তা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের জন্য এই ফলের তাৎপর্য হলো, যুদ্ধ চলার মধ্যেও তার রাজনৈতিক দল সংসদে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকেরা ফলটিকে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।
অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, নির্বাচনী পরিবেশ ও বিরোধী রাজনীতির সীমাবদ্ধতার কারণে ফলাফলকে সরাসরি জনমতের পূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখা কঠিন।
ফলে নির্বাচনের ফল নিয়ে দুই ধরনের ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে। সরকারি দৃষ্টিতে এটি যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের প্রতি সমর্থনের প্রমাণ; সমালোচকদের দৃষ্টিতে নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন।
তবে সংসদীয় বাস্তবতায় ফলের অর্থ স্পষ্ট—ইউনাইটেড রাশিয়া ডুমায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন ধরে রাখছে এবং পুতিনের রাজনৈতিক কাঠামোর সংসদীয় ভিত্তি আরও শক্ত থাকছে।
