চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অক্টোবরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। ২১ সেপ্টেম্বর শি জিনপিংয়ের সভাপতিত্বে রাজনৈতিক ব্যুরোর বৈঠকে এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকটির আগে চীনের সামরিক ও দলীয় কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। দুই শীর্ষ জেনারেলকে দল ও সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কার এবং দলীয় আত্মশাসন নিয়ে নতুন নথি তৈরির সিদ্ধান্তের কারণে অক্টোবরের বৈঠকটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দলীয় আত্মশাসনে নতুন জোর
চীনা রাজনৈতিক ব্যুরোর বৈঠকে দলীয় আত্মশাসন আরও কঠোর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দলীয় নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা সামনে আনা হবে।
আসন্ন প্লেনামে এ বিষয়ে একটি নথি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার জন্য তোলা হবে। এর খসড়া নিয়ে এরই মধ্যে দলীয় সদস্য এবং দলীয় কাঠামোর বাইরের কিছু ব্যক্তির মতামত নেওয়া হয়েছে বলে চীনা সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
সামরিক বাহিনীতেও বড় পরিবর্তন
বৈঠকের আগে চীনের সামরিক বাহিনীতে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ঝাং ইউশিয়া এবং সাবেক যৌথ স্টাফ প্রধান লিউ ঝেনলিকে দল ও সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দলীয় আনুগত্যের ঘাটতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানুয়ারিতে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের কথা জানানো হয় এবং আগস্টে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশন থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেপ্টেম্বরে দলীয় ও সামরিক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসে।
শিরোনামে শৃঙ্খলা, ভেতরে ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস
চীনা সরকারি বিবৃতিতে আসন্ন বৈঠকের মূল বিষয় হিসেবে দলীয় আত্মশাসন ও শৃঙ্খলা জোরদারের কথা বলা হয়েছে। একই সময়ে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হওয়ায় দলীয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বাস্তব রাজনৈতিক ঘটনাবলির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে উঠেছে।
চীনে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শি জিনপিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম অংশ। ২০১২ সালের পর থেকে দল, সরকার ও সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে অসংখ্য কর্মকর্তা তদন্ত ও শাস্তির মুখে পড়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক নেতৃত্বে এই অভিযান আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর বেইজিংয়ে
অক্টোবরে প্লেনাম শুরু হলে শুধু দলীয় আত্মশাসন নয়, চীনের সামগ্রিক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার সম্পর্কেও নতুন সংকেত পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কীভাবে কাঠামো পুনর্গঠন করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এখন পর্যন্ত চীনা কর্তৃপক্ষ আসন্ন বৈঠকে সামরিক নেতৃত্বের পরবর্তী কাঠামো বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। ফলে এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য প্লেনামের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
