কোরীয় উপদ্বীপে আবারও ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ। মাত্র প্রায় তিন ঘণ্টার ব্যবধানে পূর্ব উপকূল থেকে দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সামরিক কর্তৃপক্ষ উৎক্ষেপণগুলো শনাক্ত করেছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক মহড়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে উত্তর কোরিয়ার ওয়ানসান এলাকা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। সেটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়, যেটি ৬০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে।
দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে গিয়ে পড়েছে বলে জাপানের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মার্কিন সামরিক মহড়াকে দায়ী করছে পিয়ংইয়ং
উৎক্ষেপণের কয়েক দিন আগে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক মহড়াগুলোকে পিয়ংইয়ং কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়ানোর কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জংও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্যে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের সামরিক তৎপরতাকে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য চাপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া এসব সামরিক মহড়াকে নিজেদের প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় দফা পরীক্ষা
এই উৎক্ষেপণকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে এর সময়কাল। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এটি উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর দেশটি একাধিক অস্ত্রের সমন্বিত মহড়া চালিয়েছিল বলে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছে, নতুন উৎক্ষেপণগুলোর প্রকৃতি ও সক্ষমতা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তথ্য বিনিময় করছে সিউল।
ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগেও উৎক্ষেপণ
উৎক্ষেপণের সময়টিও আন্তর্জাতিকভাবে নজর কেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে উত্তর কোরিয়া এই পরীক্ষা চালিয়েছে। একই সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনও শুরু হয়েছে।
ফলে কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নজরদারি বাড়ছে
উত্তর কোরিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ হলেই দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান তাদের নজরদারি ব্যবস্থা সক্রিয় করে। এবারের ঘটনাতেও দুই দেশ উৎক্ষেপণের গতিপথ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেছে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জাপানের ভূখণ্ড বা আঞ্চলিক জলসীমায় পড়েনি। তবে নিয়মিতভাবে এ ধরনের পরীক্ষা চালানোয় টোকিও উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বাড়ছে নজর
একদিকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, অন্যদিকে নতুন যুদ্ধাস্ত্রের পরীক্ষা—সব মিলিয়ে উত্তর কোরিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ড আবারও বাড়তি নজর কেড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই পিয়ংইয়ং পরবর্তী সময়ে আরও কোনো পরীক্ষা চালায় কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
