আজারবাইজানে শুরু হয়েছে তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও আজারবাইজানের যৌথ সামরিক মহড়া ‘ঐক্যের শক্তি-২০২৬’। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই মহড়া চলবে ১ অক্টোবর পর্যন্ত। তিন দেশের সামরিক সদস্যদের অংশগ্রহণে আজারবাইজান এই মহড়ার আয়োজক দেশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
২২ সেপ্টেম্বর খোভাভেন্দ অঞ্চলের গিজিলগায়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে মহড়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে তিন দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং অংশগ্রহণকারী সেনাদের আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
যৌথ অভিযানই মহড়ার মূল লক্ষ্য
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহড়াটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য বহুমুখী বা হাইব্রিড হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যৌথ অভিযান পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দক্ষতা উন্নত করা।
আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও বলেছে, মহড়ার মাধ্যমে তিন দেশের সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো, সেনাদের ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নত করা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিন দেশের সামরিক সহযোগিতায় নতুন ধাপ
তুরস্ক ও আজারবাইজানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। উজবেকিস্তানও সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও অন্যান্য তুর্কিভাষী দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে। এবার তিন দেশের সেনাদের একই মহড়ায় অংশগ্রহণ সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত কাঠামোয় নিয়ে এসেছে।
মহড়ায় স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর বিভিন্ন উপাদান অংশ নিচ্ছে বলে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এর ফলে শুধু স্থলবাহিনীর সমন্বয় নয়, বিভিন্ন সামরিক শাখার মধ্যে যোগাযোগ ও যৌথ পরিকল্পনার অনুশীলনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আজারবাইজানের মাটিতে মহড়ার গুরুত্ব
মহড়ার আয়োজক হিসেবে আজারবাইজানের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। খোভাভেন্দ অঞ্চলের গিজিলগায়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে। মহড়ার মাধ্যমে আজারবাইজান নিজের সামরিক প্রশিক্ষণ অবকাঠামো ব্যবহার করে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত সামরিক কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি করেছে।
এই অঞ্চলে তুরস্ক ও আজারবাইজানের নিরাপত্তা সহযোগিতা দীর্ঘদিনের হলেও উজবেকিস্তানের অংশগ্রহণ মহড়াটিকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক মাত্রা দিয়েছে।
১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে মহড়া
‘ঐক্যের শক্তি-২০২৬’ মহড়া ২১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ১ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সামরিক প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ সক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
মহড়াটি শেষ হওয়ার পর তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কী ধরনের নতুন ব্যবস্থা তৈরি হয়, সেটিও নজর রাখার বিষয়। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মহড়াটির ঘোষিত উদ্দেশ্য মূলত যৌথ প্রশিক্ষণ, হাইব্রিড হুমকি মোকাবিলা এবং সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো।
