যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে ভোটারদের মধ্যে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ভোটার ওয়াশিংটনের বর্তমান পরিচালনব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চান। এই মনোভাব কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
জরিপের ফল এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ক্ষমতাসীন দলকে নিজেদের নীতির সাফল্য ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি ভোটারদের অসন্তোষেরও জবাব দিতে হচ্ছে। তবে জনমতের জরিপ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে না। ভোটারদের অংশগ্রহণ, স্থানীয় প্রার্থীদের অবস্থান এবং নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ।
কেন পরিবর্তন চাইছেন ভোটাররা
সাম্প্রতিক জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের বড় অংশ মনে করছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রশাসনের কার্যক্রম তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। প্রায় অর্ধেক ভোটার সরকারের পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চান। আরও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চান আরও ব্যাপক পরিবর্তন।
অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় এই অসন্তোষের অন্যতম প্রধান কারণ। খাদ্যপণ্য, আবাসন, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ সাধারণ পরিবারের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করছে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচক ইতিবাচক থাকলেও মানুষ যদি নিজেদের আয় দিয়ে আগের মতো জীবনযাপন করতে না পারেন, তাহলে সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের দাবি তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ১০ জনে আটজন ভোটার অর্থনীতি অথবা জীবনযাত্রার ব্যয়কে আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছেন। স্বাস্থ্যসেবা ও ইরান যুদ্ধ নিয়েও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারের উদ্বেগ রয়েছে।
রিপাবলিকানদের সামনে কী চ্যালেঞ্জ
প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে কোন দলের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত, সে প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন কিছুটা বেশি দেখা গেছে। প্রায় অর্ধেক নিবন্ধিত ভোটার কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে দেখতে চান। রিপাবলিকানদের পক্ষে সমর্থন তুলনামূলক কম, আর একটি অংশ এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।
ভোট দেওয়ার আগ্রহের ক্ষেত্রেও দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাট ভোটারদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জানিয়েছেন, নির্বাচনে ভোট দেওয়া তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হার প্রায় ৬০ শতাংশ।
এই ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্বাচনের ফল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, নির্বাচনী প্রচার এবং ভোটদানের হার ফলকে বদলে দিতে পারে।
ট্রাম্পের নীতিতে কোথায় অসন্তোষ
ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের বড় অংশ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্যনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাঁর সমর্থকদের অনেকে এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। কিন্তু সমালোচকদের উদ্বেগ, বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক সংঘাত দেশের অর্থনীতি এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের প্রভাবও এখন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত জ্বালানির দাম, পরিবহন ব্যয় এবং বাজারের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে বিদেশনীতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটদের জন্য সুযোগ, তবে নিশ্চয়তা নয়
সরকারের প্রতি অসন্তোষ ডেমোক্র্যাটদের পরিবর্তনের বার্তা সামনে আনার সুযোগ দিয়েছে। তবে ভোটারদের সমর্থন পেতে হলে শুধু ট্রাম্পের সমালোচনা নয়, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প পরিকল্পনাও তুলে ধরতে হবে।
রিপাবলিকানদের জন্য জরুরি হলো মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগের বাস্তবসম্মত জবাব দেওয়া। নিজেদের অর্জন ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি দলীয় সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে হবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা কংগ্রেসের আসন নির্ধারণের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের নীতির প্রতিও নিজেদের মনোভাব প্রকাশ করেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
তাই সাম্প্রতিক জরিপ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা হলেও এটি নির্বাচনের চূড়ান্ত রায় নয়। ভোটারদের অসন্তোষ কতটা ভোটে রূপ নেয়, আর দুই দল নিজেদের সমর্থকদের কতটা সক্রিয় করতে পারে—সেটিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
