হারের পরই ব্রাজিল ছেড়ে পালালেন ফ্লাভিও বলসোনারো! গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে, জানাল মার্কিন প্রশাসন 

সংবাদটি শেয়ার করুন

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে পাড়ি জমিয়েছেন ডানপন্থী নেতা ফ্লাভিও বলসোনারো। আদালতের নির্দেশে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা পার হওয়ার পর তাঁর দেশত্যাগের খবর সামনে আসায় ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেওয়া, ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আর্থিক অনিয়মের তদন্ত—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের জন্য ভিসা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ফলে নির্বাচনী পরাজয়ের পর তাঁর দেশত্যাগ এখন ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর বদলে গেল পরিস্থিতি

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। নির্বাচনের প্রথম দফায় এগিয়ে থাকায় তাঁর শিবিরের মধ্যে জয়ের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত ভোটে লুলার কাছে পরাজিত হন তিনি। এতে ডানপন্থী রাজনৈতিক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা তৈরি হয়।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও ফ্লাভিও পরাজয় স্বীকার করেননি। বরং ভোটের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তসহ কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফলাফল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তবে তাঁর রাজনৈতিক দল সোমবার লুলার বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ফ্লাভিওর ব্যক্তিগত অবস্থান এবং তাঁর দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য সামনে এসেছে।

পরাজয়ের পর ফ্লাভিও বলেছিলেন, তিনি ব্রাজিলেই থাকবেন এবং লুলার সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী শক্তিকে সংগঠিত করবেন। কিন্তু এর পরপরই তাঁর দেশত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসে, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ কেন

ফ্লাভিওর দেশত্যাগের খবরের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশ। আদালতের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দি মোরায়েস তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগসংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্ত চলছে। তবে তিনি এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমনটি বলা যায় না। তাঁর পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং তদন্তের বিষয়ে আইনি লড়াই চালানোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও তিনি পাসপোর্ট জমা দেননি বলে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর তাঁর ব্রাজিলীয় ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়। কিন্তু তাঁর বিদেশযাত্রা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়, কারণ তাঁর ইতালীয় নাগরিকত্বও রয়েছে বলে জানা গেছে।

ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর দেশত্যাগের আনুষ্ঠানিক নথি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও উঠে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সূত্র এবং তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের বরাতে জানা যায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর সেখানে পৌঁছানোর খবরও প্রকাশিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র

ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা দেওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বলসোনারো পরিবারের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘদিনের। ফ্লাভিওর বাবা জইর বলসোনারোও ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ফলে নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়া দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্রাম্প ব্রাজিলের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলেও খবর এসেছে। অন্যদিকে লুলা নির্বাচনের ফলকে জনগণের রায় হিসেবে দেখছেন। এই পরিস্থিতিতে ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে যেতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া এবং রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার বিষয় দুটি এক নয়। ভিসা দেওয়ার ঘোষণা থেকেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাঁর ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং আইনি পরিস্থিতি নিয়ে আরও তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

লুলার প্রতিক্রিয়া ও বলসোনারো পরিবারের অতীত

ফ্লাভিওর দেশত্যাগের খবরের প্রতিক্রিয়ায় লুলা কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে লজ্জাজনক। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফল ও দেশের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়া রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বের অংশ।

বলসোনারো পরিবারের জন্য ঘটনাটি নতুন নয়। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হারের পর জইর বলসোনারোও ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ফিরে আসেন। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনী ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা ও অভ্যুত্থানসংক্রান্ত মামলায় গুরুতর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ওই ঘটনায় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বড় সংকটে পড়ে।

এবার ছেলের দেশত্যাগের ঘটনা সেই অতীতকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তবে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং বিচারিক প্রক্রিয়া আলাদা। তাই এক ব্যক্তির পরিস্থিতির ভিত্তিতে অন্যজনের দায় নির্ধারণ করা যায় না।

বিরোধী রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে

ফ্লাভিও বলেছিলেন, তিনি লুলার সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরকে নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু দেশত্যাগের ফলে সেই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্রাজিলের রাজনীতিতে বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিতে হলে সংসদীয় সমর্থন, দলীয় ঐক্য এবং দেশের ভেতরে সক্রিয় রাজনৈতিক উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি অর্থায়ন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাব বিস্তার এবং অনলাইন প্রচারণা নিয়ে অভিযোগের বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধ যত বাড়বে, ততই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সামনে কোন পথে ব্রাজিলের রাজনীতি

ফ্লাভিওর দেশত্যাগ ব্রাজিলের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে। একদিকে লুলা সরকারকে অর্থনীতি, সামাজিক নীতি ও রাজনৈতিক বিভাজন সামলাতে হবে; অন্যদিকে বলসোনারো-সমর্থিত ডানপন্থী শক্তি বিরোধী রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করবে।

ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত, আদালতের নির্দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর অবস্থান—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার তাঁর উদ্যোগের পরিণতিও নজরে থাকবে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিও বলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়া শুধু একজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি ব্রাজিলের নির্বাচনী রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা এবং ডানপন্থী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তিনি বিদেশে থেকেই বিরোধী রাজনীতি পরিচালনা করবেন, নাকি আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁর পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য

ইতিহাস লুলার! নির্বাচন জিতলেন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে, চতুর্থবারের মতো হচ্ছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় জয় পেয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রক্ষণশীল প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে আবারও দেশটির নেতৃত্বে থাকার ম্যান্ডেট...

মিলেইয়ের ক্রিপ্টো জালিয়াতি তদন্ত বাতিল, আর্জেন্টিনায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং তাঁর বোন কারিনা মিলেইয়ের বিরুদ্ধে আলোচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি কেলেঙ্কারি ঘিরে চলা ফৌজদারি তদন্ত বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির এক বিচারক। তদন্ত...

আরও পড়ুন

রুশ ডিজেল বিক্রিতে ছাড় দিলেন ট্রাম্প, জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, আন্তর্জাতিক...

আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব নিয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব পরা নিয়ে নতুন পোশাকবিধির প্রয়োগ ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্মীয় পোশাক পরার কারণে ছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়ার...

আলবেনিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আগুন, দুর্নীতি ও ব্যয়বৃদ্ধিতে উত্তাল তিরানা

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয়, শিক্ষার পরিবেশ, তরুণদের কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং...

বলতে পারেন, কোন দেশের কাছে কত পারমাণবিক বোমা আছে? সংখ্যা শুনলে অবাক হবেন!

পারমাণবিক অস্ত্র বিশ্বের সবচেয়ে বিধ্বংসী সামরিক শক্তিগুলোর একটি, যার একটি বিস্ফোরণেই মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে একটি শহর, প্রাণ হারাতে পারেন অসংখ্য মানুষ...

সৌদি আরবকে রক্ষায় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত মিসর, মধ্যপ্রাচ্যে কি নতুন সামরিক সমীকরণ?

সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে দেশটিকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র...

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের দাবি চীনের, ফিলিস্তিন ইস্যুতে কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন বন্ধ এবং বিদ্যমান সম্প্রসারণের পদক্ষেপ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আজারবাইজানে এক বৈঠকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট...

বলতে পারেন, বিমানের জানালা সবসময় কেন গোল হয়? পেছনে রয়েছে মর্মান্তিক ইতিহাস

বিমানের জানালা গোল বা ডিম্বাকৃতির হওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নিরাপত্তা। তবে এই নকশার গুরুত্ব প্রকটভাবে সামনে আসে ১৯৫০-এর দশকে, যখন ব্রিটিশ যাত্রীবাহী...

আলবার্টার বিচ্ছিন্নতা ঠেকাতে শেষ মুহূর্তের প্রচারে মার্ক কার্নি, ঐক্য রক্ষায় কানাডায় রাজনৈতিক লড়াই

কানাডা থেকে আলবার্টা আলাদা হওয়ার পথে এগোবে কি না, সেই প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ গণভোটের আগে প্রদেশটির ভোটারদের উদ্দেশে শেষ মুহূর্তের আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।...

আফগানিস্তানের সঙ্গে নিঃশর্ত আলোচনায় রাজি নয় পাকিস্তান, সন্ত্রাস দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপের দাবি

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পাকিস্তান প্রস্তুত থাকলেও কোনো শর্ত ছাড়াই সংলাপে রাজি নয় ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের বক্তব্য, আফগান ভূখণ্ড থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা...

মালয়েশিয়া সফরে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট, জান্তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও আসিয়ান কূটনীতি নিয়ে নতুন আলোচনা

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের মালয়েশিয়া সফর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকট,...

৩ বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর সফল প্রত্যাবর্তন, ২০২৬ সালে প্রকৃতি সংরক্ষণে বিশাল সাফল্য

দীর্ঘদিনের সংরক্ষণ প্রচেষ্টা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হারিয়ে যেতে বসা বন্যপ্রাণীদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। কাজাখস্তানের...

কঙ্গোর বিদ্রোহী জোটের নেতৃত্বে সাবেক প্রেসিডেন্ট কাবিলা, সংঘাতের সমীকরণে বড় পরিবর্তন

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন রাজনৈতিক মোড় নিয়েছে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলা পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় বিদ্রোহী জোটের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। রুয়ান্ডা-সমর্থিত...

মিলেই সরকারের ব্যয় সংকোচনের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, বিশ্ববিদ্যালয় অর্থায়ন নিয়ে উত্তেজনা

আর্জেন্টিনায় প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের বিক্ষোভ নতুন করে তীব্র হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে সমাবেশ ও...

জ্বালানি সংকট, চীনের প্রতিযোগিতা ও ইউক্রেন যুদ্ধ—তিন চাপে ইউরোপের অর্থনীতি কতটা বিপর্যস্ত?

ইউরোপের অর্থনীতি এখন এমন এক সময় পার করছে, যখন জ্বালানির বাড়তি ব্যয়, চীনের শিল্প ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব একসঙ্গে চাপ...

আরও পড়ুন

সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষায় ফাঁক কোথায়? হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। উন্নত রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা এবং...

যন্তর মন্তর: জ্যোতির্বিদ্যার পর্যবেক্ষণাগার থেকে ভারতের গণআন্দোলনের প্রতীক, বদলে যাচ্ছে প্রতিবাদের ঠিকানা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ, অনশন ও নাগরিক আন্দোলনের পরিচিত ঠিকানা। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে কৃষকের দাবি, নারীর নিরাপত্তা, ক্রীড়াবিদদের...

তাইওয়ান উত্তেজনার মধ্যে ফিলিপাইনকে কড়া বার্তা চীনের, দক্ষিণ চীন সাগরে বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি

দক্ষিণ চীন সাগরে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে চীনা কূটনীতিকের মন্তব্যকে ফিলিপাইন সম্ভাব্য শক্তি প্রয়োগের হুমকি...

ইন্দোনেশিয়ার দাবানলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার

ইন্দোনেশিয়ার বন ও ভূমিতে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের কারণে প্রায় ২ লাখ ৮৩...

ব্রাজিলের নির্বাচনে ফ্লাভিও বলসোনারোর পাশে একের পর এক দল, বিরোধী জোটে বাড়ছে সমর্থন

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় দফার ভোট সামনে রেখে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ও ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও...

জাপানের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার, রাশিয়ায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনা

রাশিয়ায় জাপানি সাংবাদিক ইউকি ইমাইকে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে আটক করার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মস্কোর অভিযোগ, সাংবাদিকটি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা...

আঙুলের নখের চেয়েও ছোট্ট ব্যাঙের সন্ধান! ৭ মিলিমিটারের ক্ষুদ্রতম প্রজাতি দেখে বিষ্মিত বিজ্ঞানীরাও

ব্রাজিলের ঘন চিরসবুজ বনে পাতার স্তূপের নিচে লুকিয়ে রয়েছে এমন এক ব্যাঙ, যার দৈর্ঘ্য একটি ছোট পিঁপড়ার চেয়ে সামান্যই বেশি। পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় এর দৈর্ঘ্য...

প্রবাল বাঁচাতে সমুদ্রের তলদেশে বাজানো হচ্ছে ‘ঘুমপাড়ানি গান’, ফিরছেও মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে, বাড়ছে প্রবালের বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে প্রবাল প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপন্ন হয়ে পড়ছে অসংখ্য সামুদ্রিক...