যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার আগে পাইলট নিরাপদে বের হয়ে যেতে সক্ষম হন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের আশপাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যায়। আগুন ও বিস্ফোরণের আশঙ্কায় দুর্ঘটনাস্থলের এক মাইলের মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের একটি এফ-১৬। বিমানটি মিশিগানের আলপেনা এলাকায় চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল।
আকাশে বিপদের সংকেত
দুর্ঘটনার আগে বিমানটির সঙ্গে থাকা আরেক পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে সম্ভাব্য বিপদের কথা জানান বলে সংশ্লিষ্ট অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটি কোনো পাখির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
রেডিও যোগাযোগে বিপদে পড়া পাইলটের বের হয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পরে তিনি বিমান থেকে বেরিয়ে যান এবং যুদ্ধবিমানটি মাটিতে বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সামরিক কর্তৃপক্ষ এখনো চূড়ান্ত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
আগুন, বিস্ফোরণ ও কালো ধোঁয়া
বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পরপরই সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল স্তম্ভ দেখতে পান।
একজন স্থানীয় বাসিন্দার বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থেকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত এলাকায় পৌঁছে যায়।
দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো বেসামরিক মানুষের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমান থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনাস্থলের এক মাইলের মধ্যে থাকা মানুষজনকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ওই উচ্ছেদ নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং বাসিন্দাদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।
হাসপাতালে পাইলট
বিমান থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর পাইলটকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি সচেতন ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছিলেন।
তবে সামরিক নীতির কারণে তার পরিচয় এবং ঠিক কী ধরনের শারীরিক আঘাত পেয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় পাইলটের প্রাণহানি হয়নি—যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার পর স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আলপেনায় চলছিল সামরিক প্রশিক্ষণ
দুর্ঘটনাগ্রস্ত এফ-১৬টি একা উড়ছিল না। একই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আরও কয়েকটি এফ-১৬ অংশ নিচ্ছিল।
বিমানগুলো টেক্সাসের জয়েন্ট বেস সান অ্যান্টোনিও-ল্যাকল্যান্ড থেকে মিশিগানে গিয়েছিল। আলপেনা এলাকার ন্যাশনাল গার্ড ঘাঁটির আশপাশে তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল।
দুর্ঘটনার পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো থেকে বিরত রয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।
এফ-১৬ নিয়ে তদন্তের অপেক্ষা
এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত যুদ্ধবিমান। ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে বিমানটি মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয় এবং এরপর থেকে বহু দেশে এর ব্যবহার হয়েছে।
প্রশিক্ষণ মিশনে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনা নতুন ঘটনা নয়। উচ্চগতির উড্ডয়ন, নিচু দিয়ে চলাচল, আকস্মিক যান্ত্রিক সমস্যা কিংবা পাখির সঙ্গে সংঘর্ষ—বিভিন্ন কারণে সামরিক বিমান দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে।
মিশিগানের এই ঘটনায় পাখির আঘাতের সম্ভাবনা সামনে এলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে দুর্ঘটনার নিশ্চিত কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে না।
বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা, উড্ডয়ন-পূর্ব তথ্য, রক্ষণাবেক্ষণ নথি এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ—সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত এগোবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা পরে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন মূল লক্ষ্য দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা এবং একই ধরনের ঝুঁকি ভবিষ্যতে কীভাবে কমানো যায় তা নির্ধারণ করা।
