‘আমরা হেরেছি ইরান যুদ্ধের কারণে’, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ করে বিস্ফোরক জে ডি ভান্স

সংবাদটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স। সরাসরি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে নির্বাচনে পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধই তাদের হারিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সৎভাবে আলোচনা করতে হলে প্রথমেই ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ সামনে আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ভান্সের এমন বক্তব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক নীতি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেই মতপার্থক্য প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দলটির। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দলের পরাজয়ের দায় এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ইরান যুদ্ধকে সামনে এনে ভান্সের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরান যুদ্ধকেই পরাজয়ের প্রধান কারণ বললেন ভান্স

নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে ভান্স বলেন, রিপাবলিকানদের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট। আর সেটি হলো ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ। তাঁর ভাষায়, প্রেসিডেন্ট নিজেও আগের রাতে স্বীকার করেছেন যে যুদ্ধের প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলে পড়েছে।

ভান্সের বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো, ইরান যুদ্ধের বিনিময়ে সিনেটে পরবর্তী ছয় বছরের জন্য নিয়ন্ত্রণ হারানো কতটা যৌক্তিক ছিল, সেই প্রশ্ন। তিনি কার্যত যুদ্ধের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের কাছে এর রাজনৈতিক মূল্য ব্যাখ্যা করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্যের সারকথা, কেউ যদি মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মূল্য হিসেবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো গ্রহণযোগ্য, তাহলে সেই যুক্তি প্রকাশ্যে তুলে ধরতে হবে। একমত হওয়া কিংবা দ্বিমত পোষণ করা আলাদা বিষয়, কিন্তু পরাজয়ের প্রকৃত কারণ নিয়ে সৎ আলোচনা জরুরি।

ভান্স আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের পর দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের আগে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন। তাঁর এই অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে এত দিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ট্রাম্পের স্বীকারোক্তিও বাড়িয়েছে বিতর্ক

ভান্সের মন্তব্যের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান পরিস্থিতি রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানকে ঘিরে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপের গুরুত্বও ভোটারদের বোঝা উচিত ছিল।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যে যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্য নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভান্সের মন্তব্য আরও সরাসরি। তিনি শুধু যুদ্ধের প্রভাব থাকার কথা বলেননি, বরং এটিকেই পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এখানেই ট্রাম্প ও তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের রাজনৈতিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে এখনো সমর্থন করছেন, অন্যদিকে ভান্স নির্বাচনী বিপর্যয়ের ব্যাখ্যায় সেই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাবকে সামনে এনেছেন।

যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের পকেটেও

ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব বোঝার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষও জ্বালানি ও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপ অনুভব করছেন। ফলে বিদেশে সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নির্বাচনী প্রচারে রিপাবলিকানদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ভোটারদের একটি অংশের কাছে বিদেশে সামরিক অভিযানের চেয়ে নিজেদের পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভান্সের বক্তব্যেও এই অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, ট্রাম্পকে সমর্থন করে ২০২৪ সালে ভোট দেওয়া অনেক মানুষ যুদ্ধের অবসান চেয়েছিলেন। তাঁরা চেয়েছিলেন প্রশাসন দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিক। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন হারিয়েছে রিপাবলিকানরা।

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতেও প্রশ্ন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি। এই নীতির মাধ্যমে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও সামরিক শক্তিকে অপ্রয়োজনীয় বিদেশি সংঘাতে জড়িয়ে না ফেলে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন।

কিন্তু ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। বিশেষ করে যেসব ভোটার ট্রাম্পের কাছে নতুন কোনো বড় যুদ্ধ না করার প্রত্যাশা করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

ভান্সের বক্তব্যে এই রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তাঁর মন্তব্যের মাধ্যমে কার্যত স্বীকার করা হয়েছে, রিপাবলিকানদের একটি অংশের ভোটার বিদেশনীতি নিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট ছিলেন না।

এ ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে ভান্সের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অর্থাৎ পরাজয়ের পেছনে শুধু একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও প্রশ্ন ছিল।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জে ট্রাম্প

নির্বাচনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য হলো, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পাশাপাশি সিনেটেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে দলটি।

টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, কানসাসসহ রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। এমনকি টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় দলটির রাজনৈতিক অবস্থানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

এই ফলাফলের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনকে এখন থেকে কংগ্রেসে অনেক বেশি বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হবে। নতুন আইন পাস, সরকারি ব্যয় অনুমোদন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পাওয়া কঠিন হতে পারে।

এ ছাড়া কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ বিরোধীদের হাতে চলে যাওয়ায় প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও জবাবদিহির চাপও বাড়তে পারে। ফলে নির্বাচনী বিপর্যয় শুধু রিপাবলিকানদের আসন হারানোর ঘটনা নয়, এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপরও বড় আঘাত।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরেও নতুন হিসাব

ভান্সের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভান্সের নাম দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করা তাঁর জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তুষ্ট ভোটারদের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে ভান্স এখনো ট্রাম্প প্রশাসনেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক দায় থেকে তিনি পুরোপুরি আলাদা থাকতে পারবেন কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন। একদিকে তিনি যুদ্ধকে নির্বাচনী পরাজয়ের কারণ বলছেন, অন্যদিকে প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী কাঠামোর অংশ হিসেবে তাঁর নিজের ভূমিকাও আলোচনায় আসবে।

রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও এখন পরাজয়ের কারণ নিয়ে মতপার্থক্য বাড়তে পারে। কেউ হয়তো প্রার্থীদের দুর্বলতা কিংবা নির্বাচনী প্রচারের ব্যর্থতাকে দায়ী করবেন, আবার কেউ যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে সামনে আনবেন। এই মতবিরোধ দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরান যুদ্ধ কি বদলে দেবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি?

ভান্সের বিস্ফোরক মন্তব্য শুধু একটি নির্বাচনী পরাজয়ের ব্যাখ্যা নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ক্ষমতাসীন শিবিরের ভেতরে জমে থাকা অসন্তোষেরও প্রকাশ। যুদ্ধের সামরিক সাফল্য নিয়ে প্রশাসন যে অবস্থানই গ্রহণ করুক না কেন, মার্কিন ভোটারদের একটি বড় অংশের কাছে এর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এখন প্রশ্ন, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ইরান নীতিতে পরিবর্তন আনবে কি না। সংঘাতের অবসানে আলোচনার পথ বেছে নেবে, নাকি আগের অবস্থানেই অনড় থাকবে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ বাড়ছে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এখন আর শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়। এটি সরাসরি ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য এবং রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

ভান্সের বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্পের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নির্বাচনী পরাজয় কাটিয়ে ওঠা নয়, বরং নিজের দলের ভেতরে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলোরও জবাব দেওয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য

প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর, সমকামী সিনেটর, মুসলিম সিনেটর—মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন যারা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি; প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও সামনে এনেছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা। কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে...

বাংলাদেশে বিক্ষোভের মধ্যেই পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা—ডিসেম্বর থেকে কার্যকর, টাকা পাবেন জানুয়ারিতে

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে টানা শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি ঘোষণা করেছে সরকার গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ড। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ ডিসেম্বর...

আরও পড়ুন

প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর, সমকামী সিনেটর, মুসলিম সিনেটর—মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন যারা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি; প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও সামনে এনেছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা। কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে...

বাংলাদেশে বিক্ষোভের মধ্যেই পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা—ডিসেম্বর থেকে কার্যকর, টাকা পাবেন জানুয়ারিতে

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে টানা শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি ঘোষণা করেছে সরকার গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ড। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ ডিসেম্বর...

ইতিহাস সৃষ্টি করে মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হলেন আবদুল এল-সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে মার্কিন সিনেটে...

টেক্সাস, ওহাইও ও কানসাসে ডেমোক্র্যাটদের চমক, বদলে গেল কংগ্রেসের ক্ষমতার সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে টেক্সাস, ওহাইও ও...

ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তা ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবই কি নির্বাচনে পড়ল? ভোটের ফলাফলে নতুন বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল শুধু কংগ্রেসের ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং...

কংগ্রেস নির্বাচনে চূড়ান্ত বিপর্যস্ত ট্রাম্প! প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বাজেভাবে হারাল রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় ধরনের ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধাক্কা দিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।...

ভেনেজুয়েলায় ২০২৭ সালের নির্বাচন ঘিরে নতুন তৎপরতা, ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে ক্ষমতার সমীকরণে চলছে নানা প্রস্তুতি

ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ২০২৭ সালের সম্ভাব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে বিরোধী শিবির। নির্বাসন ও রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা বিরোধী...

ব্রাজিলের রাজনীতিতে লুলার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন, লাতিন আমেরিকার ডানপন্থী উত্থানে নতুন ধাক্কা

ব্রাজিলের রাজনীতিতে আবারও ইতিহাস গড়লেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে পড়ার পর নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন...

মেক্সিকোর নির্বাচন কমিশনে দুর্নীতির অভিযোগ, প্রধানের পদত্যাগে ২০২৭ সালের ভোট ঘিরে বাড়ল উদ্বেগ

মেক্সিকোর নির্বাচনব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জাতীয় নির্বাচন ইনস্টিটিউট—আইএনই—এখন বড় ধরনের আস্থার সংকটে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গুয়াদালুপে তাদেই দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা...

নিকারাগুয়ার সংবিধানে ক্ষমতার নতুন বন্দোবস্ত, বিরোধীদের নির্বাচনের বাইরে রাখার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়ছে দূরত্ব

নিকারাগুয়ার রাজনীতিতে সংবিধান সংশোধনের নতুন উদ্যোগ দেশটির ক্ষমতার কাঠামো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগা ও...

হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাত, আগুনে জ্বলছে তেলবাহী জাহাজ, নতুন করে জ্বালানি আতঙ্ক

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি আবারও ভয়াবহ সংঘাতের কেন্দ্রে। কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে চলাচলের সময় একের পর এক তেলবাহী জাহাজ বিস্ফোরণ ও...

ইসরায়েলে নির্বাচনের পর এখনো অধরা সরকার গঠনের সমীকরণ, চলছে দফায় দফায় আলোচনা

ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠনের জন্য...

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেই নিজেকে ব্রাজিলের ‘প্রকৃত প্রেসিডেন্ট’ দাবি ফ্লাভিও বলসোনারোর! বললেন, আমি পালাইনি

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে পৌঁছে নিজেকেই দেশের প্রকৃত নেতা ঘোষণা করেছেন ডানপন্থী রাজনীতিক ফ্লাভিও বলসোনারো। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি...

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ৬৪—বাড়ছে আরও প্রাণহানির শঙ্কা

স্পেনে আবারও ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে একটি দ্রুতগতির ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি...

ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল নেতানিয়াহুর জোট, সরকার গঠনে বড় বাধা

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ভোট গণনা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হচ্ছে, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার...

হারের পরই ব্রাজিল ছেড়ে পালালেন ফ্লাভিও বলসোনারো! গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে, নিশ্চিত করল মার্কিন প্রশাসন 

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে পাড়ি জমিয়েছেন ডানপন্থী নেতা ফ্লাভিও বলসোনারো। আদালতের নির্দেশে পাসপোর্ট...

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনকে একসাথে ফোন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর! কি আলোচনা হল?

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেছেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস...

পাঁচ বছর পর মায়ের কণ্ঠ শুনলেন অং সান সু চির ছেলে, আবেগঘন ফোনালাপের পরও কাটেনি উদ্বেগ

পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে মায়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেননি কিম আরিস। দূরদেশে বসে মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সু চির খবর জানার...

ইতিহাস লুলার! নির্বাচন জিতলেন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে, চতুর্থবারের মতো হচ্ছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় জয় পেয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রক্ষণশীল প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে আবারও দেশটির নেতৃত্বে থাকার ম্যান্ডেট...

টেলিভিশনে তো কত লোককেই দেখেছেন! কিন্তু জানেন কি, সবার প্রথম কাকে দেখা গিয়েছিল পর্দায়?

আজকের রঙিন, ঝকঝকে ও উচ্চপ্রযুক্তির টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল এক শতাব্দী আগে, অত্যন্ত সাধারণ একটি যন্ত্রের মাধ্যমে। তখন টেলিভিশনের ছবি ছিল অস্পষ্ট, সাদা-কালো এবং...